বিনোদন ডেস্ক
৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর চার মাস পেরিয়ে গেলেও আজও অধরা বিচার। গত ২৯ মার্চ দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন পানিতে ডুবে মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর নাটকের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতি অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন তাঁর পরিবার ও টলিউডের একাংশ। পরে তার মৃত্যুর তদন্তভার পড়ে সিআইডির কাঁধে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা জীতু কমল।
সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আরেকটি ২৯ পেরিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত কোথায়? কোথায় সেই তদন্ত চাওয়ার মুখগুলো? কোথায় সেই তাগিদ? কোথায় সেই টিপ্পনি যে বেঁচে থাকা মানুষ কখন আন্দোলন করবে আর কখন চুপ করে থাকবে? কীভাবে চলে গেল একটি প্রাণ— সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত। আমরা শুধু মানুষে মানুষে বিভক্ত হলাম।’
জিতু আরও লেখেন, “মা গো, বাবা গো, পিসি গো’—এসব আবেগের ডাকের আড়ালে কোথাও যেন অর্থের লোভ আর আত্মপ্রচারের আকাঙ্ক্ষা বড় হয়ে উঠল। সেই দৌড়ে আমরা হারিয়ে ফেললাম মানবিকতা। হারিয়ে ফেললাম নিজের জীবনকেও। একদিন আমরাও শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখনও হয়তো কেউ খোঁজ নেবে না। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ খোঁজ রাখবে না। অথচ সত্যিটা কী, ন্যায়বিচার আর মানুষের জীবনের দাম কত—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাটা আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল।’

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে টলিউডের অন্দরে শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সুটিং সেটে হেনস্থার প্রসঙ্গ বারবার সামনে এনেছেন জীতু। এর আগে ‘এরাও মানুষ’ ছবির শুটিংয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল, সেদিন যদি তাঁর মতো শিল্পীদের কথা শোনা হতো তাহলে হয়তো অকালে প্রাণ হারাতে হতো না রাহুলকে।
২০০৮ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত অভিনেতার 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবিটি ব্যপক প্রশংসা পায়। দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও সিনেমার গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বাস্তব জীবনের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনয় যাত্রা শুরু করেন বাবার সঙ্গে রাজ দর্শন নামের একটি নাটকে বিজয়গড় থিয়েটার দলের মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।