রাফিউজ্জামান রাফি
০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
দর্শকের সকল প্রশংসা ‘মায়া পাখি’র তরে। নাম ভূমিকায় নাজনীন নিহা। তার অভিনয়ে মুগ্ধ নেটিজেনরা। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত এ নাটক ও নিহার প্রশংসায় সয়লাব সামজিক মাধ্যম। সেসবসহ বিবিধ বিষয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল ঢাকা মেইলের।
‘মায়া পাখি’র মায়ায় বাঁধা পড়েছেন দর্শক…
‘মায়া পাখি’ নাটকটি মায়া দিয়ে করা। শুটিংয়ের সময় চরিত্রে ঢুকে গিয়েছিলাম। কাজটি শেষ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল বের হতে পারছি না। গোটা টিম পরিবারের মতো সহযোগিতা করেছে। পরিবেশটা এরকম করে সাজিয়েছিলাম— যেন কাজটি আমার জন্য সহজ হয়। নাটকটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দর্শকের এত ভালোবাসা পাব ভাবিনি।

মায়ার সঙ্গে নিহার কতটা মিল?
গল্পের শুরুর মায়ার সঙ্গে মিল আছে। আমি তার মতোই মায়াময়ী। তবে বদলে যাওয়া মায়ার সঙ্গে কোনো মিল নেই আমার।
নেটিজনরা নাটকটির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করছেন…
আমি নিজেও লক্ষ করেছি। এটা সম্ভব হয়েছে অপূর্ব ভাইয়া (জিয়াউল ফারুক অপূর্ব) ও সৌখিন ভাইয়ার (জাকারিয়া সৌখিন) জন্য। এটা এভাবে করো, ওটা ওভাবে করো— ওনারা প্রত্যকটি জিনিস এরকম ধরে ধরে বলে দিয়েছেন। আমিও আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। আগেও বলেছি, আমি শিখছি। এটা আমার শেখার সময়। এখনও নিজেকে নতুন মনে করি। সবাই পছন্দ করছে শুনে ভালো লাগছে। আরও ভালো করার চেষ্টা করব।

নারীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে— নাটকটি নিয়ে এরকম সমালোচনাও চলছে।
বাস্তবে এরকম ঘটনা অনেক আছে। গল্পের প্রয়োজনে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। অবাস্তব কিছু দেখানো হয়নি। খারাপ কিছুও উপস্থাপন করা হয়নি। দর্শকদের জন্য শিক্ষণীয়ও বলতে পারেন। কেননা খারাপ কিছুর ফল কখনও ভালো আসে না। নাটকটি দেখে তারা এটা বুঝতে পারবেন।
পরিবারের কেউ চাননি অভিনয়ে নাম লেখান। এখন তাদের অবস্থান কেমন?
শুরুতে কেউ সাপোর্ট করেনি। মা-ও না। তবে এখন আমার কোনো নাটক মুক্তি পেলে আব্বু চার-পাঁচবার দেখেন। আম্মুও একাধিকবার দেখেন। পরিবারের সবাই সমর্থন করেন। কাছের বন্ধুরাও উৎসাহ দেয়।

জনপ্রিয়তা পেতে বেশি সময় লাগেনি। সমসাময়িকরা ঈর্ষা করেন?
এক্ষেত্রে আমি অনেক ভাগ্যবান। অভিনয়ে আসার পর এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। যদিও পেছনের মানুষের কথা জানি না। তবে সবাই আমাকে ভালোবাসে এবং আদর করে। তাদের থেকে সব রকমের সহায়তা পেয়েছি। সত্যি বলতে ক্যারিয়ারের পেছনে আমার যত না তাগিদ ছিল চারপাশের মানুষজনের ছিল তার চেয়ে বেশি। তাদের ভালোবাসা আর প্রত্যাশায় আমারও তাড়না বেড়েছে।
সিনেমা নিয়ে ভাবনা কী?
নাটকে নাম লেখানোর আগেও সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। এখনও আসে। আপাতত নাটক নিয়েই ভাবতে চাই। আমি মনে করি সিনেমা অনেক বড় একটা জায়গা। অনেক প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপার থাকে। সে কারণে আপাতত ভাবছি না

একের পর এক সাফল্য কী স্বপ্নকে বড় করে তুলছে?
খুব বড় কিছু হতে চাই না। যে অবস্থানে আছি সেটা ধরে রাখতে চাই। সবাই যেন এভাবেই ভালোবাসে। আজ থেকে অনেক বছর পর যদি নাও থাকি আমার কাজ নিয়ে যেন মানুষ কথা বলে। আমি যেন আলোচনার টেবিলে থাকি— এটাই প্রত্যাশা।
আরআর