বিনোদন প্রতিবেদক
০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনাজ কাকলী। লম্বা সময় ধরে দেশে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এবার তাঁকে ভারতের বেঙ্গালুরু মনিপাল হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মেইলকে স্ত্রীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা কথা জানিয়েছেন তার স্বামী ও অভিনেতা প্রাণ রায়।
প্রাণ রায় বলেন, ‘কাকলীর শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। এখন ভারতে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করছি। শিগগিরই হয়তো যাব।’ বর্তমানে কাকলী বাসায় আছেন। সেখানেই নিয়মিত থেরাপি চলছে বলে জানান তিনি।
ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘আশা করি দুই-একদিনের ভেতর পাসপোর্ট-ভিসা হয়ে যাবে। আগামী ১৫ তারিখের দিকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। ওখানকার মনিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাব।’

স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের গাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে প্রাণ রায়কে। বর্তমানে চিকিৎসার ব্যয়ভার কীভাবে বহন করছেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যয় সবার সহযোগিতায় চলছে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন দিক থেকে সহযোগিতা করছেন। ভারতে যাওয়ার আগে দেখি আরও কতদূর ব্যবস্থা করা যায়। তবে এতদূর যে আসতে পারব আমি ভাবতে পারিনি। যে পরিমাণ খরচ হয়েছে এবং আগামীতেও যে পরিমাণ লাগবে সেটা কোথা থেকে আসবে তা পরিকল্পনা করে কূল-কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যেহেতু এতদূর আসতে পেরেছি, আমার বিশ্বাস কোনো না কোনোভাবে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এখনও অনেকে পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’
সরকারি অনুদান বা সহযোগিতার বিষয়ে প্রাণ রায় জানান, একবারে শেষ ধাপে যদি সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে নেবেন। তবে সরকারের সহযোগিতার বিষয়টা মাথায় রেখেই ভারতের যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তিনি আরও জানান, কাছের মানুষদের সহযোগিতায় স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। তার একার পক্ষে চিকিৎসার খরচ জোগানোর সম্ভাব না।

দীর্ঘদিন ধরে চলা চিকিৎসায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কঠিন সময়েও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রাণ রায়। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সমিতি আজ অব্দি কোনো যোগাযোগ করেনি।’ এদিকে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে লম্বা সময় ধরে কাজ করতে পারেননি অভিনেতা।
চিকিৎসার খরচের জোগান দিতে গিয়ে বর্তমানে বড় অঙ্কের দেনার মুখে পড়তে হয়েছে প্রাণ রায়কে। দেনার বিষয়ে জানতে চাইলে অকপটে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, একটা দেনা তো থেকেই যায়। আমি প্রথম দিকে অনেকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো লোন করেছিলাম। সেই লোনগুলো তো আছেই। আশা রাখি কাকলী সুস্থ হলে এবং আমি কাজে ফিরলে ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারব।’
ইএইচ/