বিনোদন ডেস্ক
০৯ মে ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
নব্বই দশকে বলিউডের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী তানাজ ইরানি। যদিও পর্দার পেছনের জীবনটা মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসম বয়সের পুরষকে বিয়ে,আট বছরের মাথায় জীবনের ছন্দপতনসহ ব্যক্তিগত জীবনের ধূসর অধ্যায়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
বিয়ের দুই বছরের মাথায় ঘর ভাঙল জনপ্রিয় অভিনেত্রীর
শৈশব নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দাদী ছিলেন একজন অপেরা গায়িকা। তিনি অফ-শোল্ডার পোশাক পরতেন, নিজের মতো করে বাঁচতেন। আমার বাড়ির পুরুষরা কখনোই নারীদের বাধা দেয়নি, কারণ বাড়ির নারীরাই তাদের সেভাবে গড়ে তুলেছিলেন। আমি সবসময় একটু স্বাস্থ্যবতী ছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার কখনোই আমাকে মোটা বলে অস্বস্তিতে ফেলেনি।’

বাবার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা প্রতিদিন সকালে উঠে মায়ের জন্য চা বানাতেন। আমাদের স্যান্ডউইচ তৈরি করে দিতেন। আমি মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর বুঝেছিলাম বাইরের জগতটা আমাদের ঘর থেকে কতটা আলাদা।’
বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে স্বামী বিরুদ্ধে মামলা অভিনেত্রীর
পরিবারের প্রশ্রয়ে বড় হওয়া তানাজ সবসময় নিজের মনের কথা শুনতেন। আর সেই টানেই মাত্র ২০ বছর বয়সে থিয়েটার শিল্পী ফরিদ করিমকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন তার চেয়ে ১৮ বছরের বড়। সেই দিনগুলোর কথা মনে করে তানাজ বলেন, ‘আমার পরিবার বলতেন তানাজ যা করতে চায়, তা-ই করবে। বিয়ের পর বাবার বাড়ির মতো চাওয়াগুলো স্বামীকে বলতাম। আমি বাইরে যেতে চাইতাম, পার্টি করতে চাইতাম। কিন্তু সে (ফরিদ) আমার চাওয়াকে গুরুত্ব দিতে পারেনি।’ ফলে আট বছর সংসার করার পর ১৯৯৩ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

অভিনেত্রী তানাজ এবং ফরিদের একটি কন্যা সন্তান আছে, যার নাম জিয়ান। সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে অভিনেত্রী জানান, বিচ্ছেদের সময় তিনি বুঝতে পারেননি এর প্রভাব তার ছোট্ট মেয়ের ওপর কতটা পড়বে। বিচ্ছেদের পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অপরাধবোধ তাকে কুরে কুরে খায়।
বিচ্ছেদের গুঞ্জন, মুখ খুললেন গোবিন্দ
তিনি বলেন, ‘সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা হলো তার মা। কিন্তু আমি নিজেই সেই নিরাপত্তা বলয়টা ভেঙে দিয়েছিলাম। আমি অনেক পরে বুঝতে পেরেছি, আমার মেয়ের জন্য সেই সময়টা মোটেও সহজ ছিল না।’

তানাজ যোগ করেন, ‘আমাদের বিচ্ছেদের পর ও (মেয়ে) একবারে চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। অনেক মা আমাকে জিজ্ঞেস করেন সন্তানদের এই নীরবতা কতদিন সহ্য করা উচিত? আমি বলি—থাকতে দিন। আপনি তাদের নিরাপদ ঘরটা ভেঙে দিয়েছেন এখন তাদের একটু সময় তো দিতেই হবে।’
বিচ্ছেদের খবর দিলেন মাহি, কার কাছে থাকবে সন্তান?
অতীতের সেই দহন পেছনে ফেলে তানাজ আবার নতুন করে জীবন সাজিয়েছেন। ২০০৭ সালে তিনি অভিনেতা বখতিয়ার ইরানিকে বিয়ে করেন। বর্তমানে এই দম্পতির সংসারে জিউস এবং জারা নামের দুই সন্তান রয়েছে।
ইএইচ/