images

বিনোদন

মাইকেলের চরিত্রে তার ভাইপো, খবরটি গোপন রেখেছিলেন পরিবারের কাছে 

বিনোদন ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

অধিকাংশ মানুষই অবয়ব ও আচরণে পূর্ব পুরুষকে বহন করে। এবার পর্দায়ও পূর্বসূরীর অবতারে ধরা দিচ্ছেন এক উত্তরসূরী। বলছিলাম জাফার জ্যাকসনের কথা। সম্পর্কে তিনি মাইকেল জ্যাকসনের ভাইপো। এবার পর্দায় তাকে দেখা যাচ্ছে চাচা মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে। পপ সম্রাটের জীবনের ওপর নির্মিত সিনেমা ‘মাইকেল’-এ নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন জাফার। গতকাল ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। 

২৯ বছরের তরুণ জাফারের বাবা জারমেইন জ্যাকসন মাইকেল জ্যাকসনের ভাই। জারমেইনের আগে তার ভাই রেন্ডি জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন জাফারের মা আলেজান্দ্রা। জারমেইন-আলেজান্দ্রার ১১ সন্তানের একজন জাফার। 

WhatsApp_Image_2026-04-22_at_15.17.11_(1)_(1)

বায়োপিকে মাইকেলের চরিত্রে রূপদানকারী জাফারও সুরে বাস করেন। বার বছর বয়সে বাবা-চাচাদের মতো জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ড দিয়ে এ পথে আসা তার। নৃত্যশিল্পীও তিনি। জাফার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান কণ্ঠশিল্পী মারভিন গে ও স্যাম কুকের গানে। তার প্রথম গান গট মি সিঙ্গিং। এটি মুক্তি পায় ২০১৯ সালে। 

গায়ক হিসেবে জাফারের ঝুলি সমৃদ্ধ হলেও অভিনেতা জাফারের থলেতে অভিজ্ঞতা শূন্যের কোটায়। পপ সম্রাটের ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় অভিষেক হলো তার। এর আগে ২০১৫ সালে ‘দ্য জ্যাকসন্স: নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে অভিনয় করেছিলেন। ‘লিভিং উইথ দ্য জ্যাকসন্স’ নামে আরও একটি কাজ করেছেন। তবে সেটি প্রচারে আসেনি। ওই জায়গা থেকে বলা যায় শুরুটা বেশ বড় ফ্রেমেই হলো মাইকেলের অভিনয়ে অনভিজ্ঞ ভাইপোর। 

mac_20250802_152138808

অভিনয়ে অনভিজ্ঞ হলেও প্রথম অডিশনেই প্রযোজক গ্রাহাম কিংকে মুগ্ধ করেন জাফার। ২০২০ সালে তাকে মাইকেলের নাম ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন গ্রাহাম। সে সময় মাইকেলের অনুকরণ করে একটি কণ্ঠস্বর পাঠান জাফার। যা মুগ্ধ করে প্রযোজক গ্রাহামকে।

তবে সেটি চূড়ান্ত বাছাই পর্ব ছিল না। চরিত্রটির জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে অডিশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হয় জাফারকে। এতে লেগে যায় দুই বছর। ওই সময়টা তিনি কাজে লাগান নিজেকে ক্যামেরার সামনে মাইকেল জ্যাকসন হিসেবে প্রস্তুত করতে। প্রশিক্ষক রেখে শেখেন পপ সম্রাটের বাচনভঙ্গী, গায়কী, আইকনিক নাচের মুদ্রা তোলা। 

tdy-jaafar-jackson-6r7ebs

তবে সমস্ত কিছু গোপন রেখেছিলেন পরিবারের কাছে। কারণ ব্যখ্যা করে ইন্টার্ভিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাফার বলেন, “খবরটি আমার পরিবারের কেউই পুরো এক বছর জানত না। যতক্ষণ না জানানোর মতো যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি ততক্ষণ গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু যখন আমার মা পর্দায় দেখলেন, তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন। এটাকে আমার সাথে মেলানো তার জন্য কঠিন ছিল, তাই এটা তার জন্য খুব আবেগঘন ছিল।”

জাফারের বয়স যখন ১২ তখন মাইকেল মারা যান। তবে চাচাকে স্পষ্ট মনে আছে তার। ক্যালিফোর্নিয়ার এনকিনোতে বেড়ে উঠেছেন জাফার। সেখানে নিজেদের পারিবারিক আয়োজনে পপ সম্রাটকে কাছে থেকে দেখেছেন। কাটিয়েছেন সময়। 

WhatsApp_Image_2026-04-22_at_15.17.11_(2)

পর্দার মাইকেল জ্যাকসন বলেন, ‘আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমরা একসাথে পারিবারিক সময় কাটাতাম। মাইকেল আমার বেড়ে ওঠার জায়গায় আসত। অনেক সময় আমরা একসঙ্গেপারিবারিক খেলা খেলতাম।’ 

নেভারল্যান্ডে মাইকেল জ্যাকসনের খামারাবড়িতেও গেছেন জাফার। সেখানে চিড়িয়াখানা ও পার্ক ছিল। স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা নেভারল্যান্ডে দারুণ সময় কাটাতাম, লুকোচুরি খেলতাম, যত খুশি ক্যান্ডি খেতাম, রাইডে চড়তাম, সিনেমা দেখতাম।’ বোঝাই যাচ্ছে চাচার খামারবাড়িতে সময়টা বেশ কাটত জাফারের। এবার চাচার বায়োপিকে অভিনয় দিয়ে নিচ্ছেন সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।