বিনোদন ডেস্ক
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০১ পিএম
আজ ৩ এপ্রিল, ঢালিউডের চিরসবুজ অভিনেতা আলমগীরের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা এই অভিনেতা আজ পা দিলেন ৭৭ বছরে।
মুখোমুখি হচ্ছেন আলমগীর ও ইলিয়াস কাঞ্চন
অভিনেতা আলমগীরের রক্তেই মিশে ছিল চলচ্চিত্র। তাঁর বাবা ছিলেন ‘ইকবাল ফিল্মস’-এর অন্যতম পরিচালক। শৈশব থেকেই সিনেমার জগতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। বছর তিনেক আগে এক সাক্ষাৎকারে শৈশব জীবনে প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আলমগীর জানান, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান আমলের ‘আজাদ’ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। প্রামাণ্যচিত্রটির প্রিমিয়ারে বাবা-মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন মাত্র ৭ বছর বয়সী আলমগীর। ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
নায়ক আলমগীরের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি, সতর্কবার্তা আঁখির
আলমগীর বলেন, ‘সিনেমা হলের ভেতরে ওপরের একটি বক্সে আমরা বসেছিলাম। পাশেই একটি বড় চেয়ারে এসে বসলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সাহেব। আমি বারবার উঠে ওনাকে দেখছিলাম। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন। বাবা পরিচয় করিয়ে দিলে তিনি আমাকে কোলে নিয়ে বসালেন। সেখানে আমি জীবনের প্রথম সিনেমা দেখেছিলাম।’

সিনেমা দেখে ফেরার সময়কার এক মজার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেমা শেষ করে আমরা সবাই গাড়িতে বসে আছি। এমন সময় ‘মুখ ও মুখোশ’-এ ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করা এনাম আহমেদ আমার আব্বার কাছে সিনেমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন। আব্বা ভালো বললেন, ‘ভালো হয়েছে’। এরপর আব্বা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি ওনাকে চিনতে পেরেছি কি না। যখন শুনলাম উনিই সিনেমার সেই ভয়ংকর ডাকাত, আমি ভয়ে গাড়ির সামনে থেকে লাফ দিয়ে পেছনে মায়ের কোলে গিয়ে পড়েছিলাম।’
এখনও সু-অভিনেতা হতে পারিনি: আলমগীর
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন, ‘ভাত দে’, ‘মায়ের দোয়া’, ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘হীরামতি’, ‘দায়ী কে’, ‘শান্তি অশান্তি’ এবং ‘সত্য মিথ্যা’-এর মতো সিনেমা। ক্যারিয়ারে ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
ইএইচ/