বিনোদন ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
১৯৬৪ সালের কথা, উত্তাল কলকাতা। দাঙ্গা থেকে প্রাণ বাঁচাতে সপরিবারে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এক তরুণ। একবুক স্বপ্ন আর অদম্য জেদ নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে শিকড় গাড়তে লড়াই শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন সফল হয়েছিল। শুধু দেশের মাটিতে নয়, দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে শিকড় গেড়েছেন তিনি। বলছি কিংবদন্তি অভিনেতা নায়ক রাজ্জাকের কথা। আসল নাম আব্দুর রাজ্জাক।
বরেণ্য নির্মাতা জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ‘বেহুলা’ সিনেমায় ‘লখিন্দর’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক। তখনই রচিত হয় বাংলা সিনেমার এক নতুন ইতিহাস। রিফিউজি কিশোর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট হয়ে ওঠেন তিনি।
রোমান্টিক ইমেজের খোলস ভেঙে ১৯৭৩ জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডের প্রথম অ্যাকশন হিরো হিসেবে আবির্ভূত হন। এরপর ‘নিশি হলো ভোর’, ‘বাঁশরী’, ‘ময়নামতি’, ‘মনের মতো বউ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘আলোর মিছিল’, ‘বাবা কেন চাকর’ ছবিতে অভিনয় করে নিজের জাত চেনান।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি সর্বমোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন— ‘কি যে করি’ (১৯৭৬), ‘অশিক্ষিত’ (১৯৭৮), ‘বড় ভালো লোক ছিল’ (১৯৮২), ‘চন্দ্রনাথ’ (১৯৮৪) ও ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮) এই ছবিগুলোতে অভিনয়ের জন্য। এ ছাড়া তিনি ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান।
রাজ্জাক প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। তার প্রথম প্রযোজিত ও পরিচালিত ছবিটির নাম ‘অনন্ত প্রেম’। তারপর ‘মৌ চোর’, ‘বদনাম’, ‘অভিযান’, ‘সৎ ভাই’, ‘চাপা ডাঙ্গার বউ’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘বাবা কেন চাকর’ ইত্যাদি ছবি নির্মাণ করেন।

রাজ্জাক স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে কিছু উর্দু ছবিতেও অভিনয় করেন, ‘আখেরী স্টেশন’ (১৯৬৪), ‘উজালা’ (১৯৬৪), ‘গৌরি’ (১৯৯৮), ‘মেহেরবান’ (১৯৬৯), ‘পায়েল’ (১৯৭০) অন্যতম। এর মধ্যে ‘উজালা’ ছবিতে তিনি সহকারী পরিচালকের কাজ করেন।
রাজ্জাকের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি টালিগঞ্জের নাগতলাপাড়ার আট নম্বর বাড়িতে তার জন্ম। আজ কিংবদন্তি এই অভিনেতার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী।
বাংলা-উর্দু মিলিয়ে প্রায় চারশোর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করা বহু গুণে গুণান্বিত এই নায়ক ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে।
ইএইচ/