Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

প্রাথমিকে ঝরে পড়েছে ১৬.২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আবারও বেড়েছে। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমার পর ২০২৪ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার বেড়েছে তিন দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে চতুর্থ শ্রেণিতে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ২০২৪-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭ দশমিক নয় শতাংশ। পরের বছর তা কমে ১৭ দশমিক দুই শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে আরও কমে হয় ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

২০২৩ সালে ঝরে পড়ার হার কমে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে আসে। তবে ২০২৪ সালে এসে সেই ধারায় পরিবর্তন দেখা যায়। ওই বছর ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে।

সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে

শ্রেণিভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল সবচেয়ে বেশি, সাত দশমিক নয় শতাংশ। এর পরেই রয়েছে তৃতীয় শ্রেণি। এ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার পাঁচ দশমিক নয় শতাংশ।

একই বছর দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুই দশমিক চার শতাংশ, প্রথম শ্রেণিতে শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

অথচ ২০২৩ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার ছিল চার দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে তিন দশমিক নয় শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে তিন দশমিক চার শতাংশ পয়েন্ট এবং তৃতীয় শ্রেণিতে বেড়েছে দুই শতাংশ পয়েন্ট।

অন্যদিকে একই সময়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার কমেছে। তবে পঞ্চম শ্রেণিতে আগের বছরের শূন্য দশমিক এক শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে।

১২ বছরে কমলেও আবার ঊর্ধ্বমুখী

ব্যানবেইসের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ২৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা কমে ২১ দশমিক চার শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ২০ দশমিক নয় শতাংশে দাঁড়ায়।

এরপর ২০১৫ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ২০ দশমিক চার শতাংশ, ২০১৬ সালে ১৯ দশমিক দুই শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে এ হার আরও কমে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে।

পরবর্তী বছরগুলোতেও ঝরে পড়ার হার কমতে থাকে। তবে ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানে আবার তা বেড়ে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার হারও কমেছে

শুধু ঝরে পড়ার হারই নয়, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অবনতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের টিকে থাকার হার ছিল ৮৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ হার কমেছে দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট।

ছাত্রদের ক্ষেত্রে এ অবনতি তুলনামূলক বেশি। ২০২৩ সালে ছাত্রদের টিকে থাকার হার ছিল ৮৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। সেই হিসাবে এক বছরে ছাত্রদের টিকে থাকার হার কমেছে চার দশমিক ৬৮ শতাংশ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ছাত্রীদের টিকে থাকার হার ২০২৩ সালের ৮৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৮৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ হার কমেছে এক শতাংশ পয়েন্ট।

এ হিসাবে ২০২৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে ছিল। ওই বছর ছাত্র ও ছাত্রীদের টিকে থাকার হারের ব্যবধান ছিল পাঁচ দশমিক ৬০ শতাংশ পয়েন্ট।

ব্যানবেইসের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে ঝরে পড়ার হার কমলেও ২০২৪ সালে তা আবার বেড়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি এবং ছাত্রদের টিকে থাকার হার কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

এমএইচ/এসআই