Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

শেষ বয়স কাটছে অপেক্ষায়, পেনশনের টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে শিক্ষকরা

মাহফুজ উল্লাহ হিমু

২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

সারা জীবন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে মানুষ গড়েছেন। চাকরিজীবনের প্রতিটি মাসে বেতন থেকে কেটে রাখা হয়েছে অবসর ও কল্যাণসুবিধার জন্য অর্থ। শেষ বয়সে সেই টাকায় নিশ্চিন্তে দিন কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। অবসরের পর নিজের প্রাপ্য অর্থ পেতেই বছরের পর বছর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন হাজারো শিক্ষক। কেউ চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ সংসার চালাতে ধারদেনায় জড়াচ্ছেন, আবার কেউ নিজের পাওনা হাতে পাওয়ার আগেই চলে যাচ্ছেন না ফেরার দেশে।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনের ১৩ তলায় মুখোমুখি দুটি দপ্তর। একটিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট, অন্যটিতে অবসরসুবিধা বোর্ড। বাবার পাওনা অবসর সুবিধার ফাইল হাতে নিয়ে এই দুই দপ্তরের মধ্যে দিনের পর দিন ছুটছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জারিফ হোসেন।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বাসিন্দা জারিফের বাবা আফজাল হোসেন অবসরে গেছেন ২০২২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় চার বছর। কিন্তু এখনো কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা কিংবা অবসর সুবিধার কোনো অর্থই পাননি তিনি। বাবার পাওনা আদায়ের আশায় তাই বারবার জারিফকে ছুটে আসতে হচ্ছে ইস্কাটন গার্ডেনে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যানবেইসেও (প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বের অফিস) একাধিকবার গেছেন তিনি।

ঢাকা মেইলকে জারিফ বলেন, ‘এর আগে যখন এসেছি, তখন বলেছে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকে টাকা ঢুকে যাবে। ছয় মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও টাকা ঢোকেনি।’

সবশেষ বাবার ফাইল নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে যান তিনি। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত জানতে পারেন, আপাতত পেমেন্ট কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে।

জারিফ বলেন, ‘আজকে আসার পর জিজ্ঞেস করল, কল্যাণের টাকা পেয়েছি কি না। না বলার পর ট্রাস্টের আরেকটি রুমে যোগাযোগ করতে বলল। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, পেমেন্ট বন্ধ আছে। চালু হলে টাকা পেয়ে যাব। আবারও সব তথ্য দিয়ে যেতে বলেছে।’

কথা বলতে বলতে জারিফের কণ্ঠে ফুটে ওঠে দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি আর হতাশা। মগবাজারের বাসা থেকে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে কতবার এসেছেন, সেই হিসাবও আর মনে নেই তার।

জারিফ বলেন, ‘আমার বাসা মগবাজার। ঠিক কতবার এসেছি, তার হিসাব নেই। বারবার আসছি, খোঁজ নিচ্ছি। শুনি, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে অবসরে যাওয়া অনেকেই টাকা পেয়েছেন। তারা কীভাবে পেয়েছেন, সেই লিংকআপটা যদি পেতাম, তাহলে আমিও সেইভাবে চেষ্টা করতাম।’

জারিফের এই দৌড়ঝাঁপ কোনো একক পরিবারের গল্প নয়, অবসরের পর নিজের প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায় বছরের পর বছর কাটানো হাজারো বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

সারা দেশে এমন হাজারও শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যারা অবসরের পর নিজেদের প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। কেউ চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না, কেউ সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ আবার টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অবস্থাতেই মারা যাচ্ছেন। অথচ চাকরিজীবনে তাদের মূল বেতন থেকে নিয়মিত কেটে রাখা হয়েছে অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ।

তেমনই একজন গাইবান্ধার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। ২০২১ সালে অবসরে যাওয়া এই শিক্ষক ২০২৩ সালের শেষ দিকে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেলেও এখনও পাননি অবসরসুবিধার অর্থ। ২০২৪ সালে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় আসতে না পারায় সেই অর্থও তুলতে পারেননি।

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘ঝামেলার মধ্যে আসতে পারিনি। এরপর থেকে ঘুরাফেরার মধ্যেই আছি। এই বয়সে ঘনঘন আসতেও পারি না। এই ভোগান্তির শেষ কবে আল্লাহ ভালো জানেন।’

প্রাপ্য টাকার অপেক্ষায় শিক্ষকরা

সারাদেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। তাদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা পরিচালিত হয় দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।

চাকরিজীবনে একজন শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতনের ৬ শতাংশ অবসরসুবিধার জন্য এবং ৪ শতাংশ কল্যাণসুবিধার জন্য কেটে রাখা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধার জন্য। অর্থাৎ, চাকরিজীবনে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিতভাবেই তাদের ভবিষ্যৎ অবসর জীবনের জন্য অর্থ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অবসরের পর সেই অর্থ পেতেই তাদের এখন বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরসুবিধার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপর আবেদন করা প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এখনও তাদের পাওনা পাননি। ২০২৬ সালে এসেও ২০২২ সালের আবেদন করা অর্থই পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

বোর্ড সূত্র বলছে, বর্তমানে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন টাকা দেওয়া বন্ধ ছিল।

অন্যদিকে, তুলনামূলক কম অর্থের কারণে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাওয়ার অপেক্ষা কিছুটা কম হলেও সেখানেও জমে আছে বিপুল আবেদন।

ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনকারীদের কল্যাণসুবিধার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপর মে মাস পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সংকট সমাধানে সরকারি উদ্যোগে নানা প্রশ্ন

দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষকদের অবসর ভাতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস মিলেছে। এর মধ্যে অবসরসুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

তবে এই অর্থ দিয়ে একবারে পুরো সংকটের সমাধান হচ্ছে না। বর্তমানে অবসর ও কল্যাণসুবিধার জন্য অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধে প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। অবসরসুবিধা বোর্ডে গত এপ্রিল পর্যন্ত জমা পড়া ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদন নিষ্পত্তিতে দরকার ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।

অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের জমে থাকা পাওনা মেটাতে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। এরই মধ্যে শিক্ষকদের অর্থ দিতে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষকরা বৃদ্ধ বয়সে টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন-বিষয়টি আমাকে কষ্ট দেয়। এটি অমানবিক। বিষয়টি সুরাহা করতে আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। একদিনে এর সমাধান হয়তো সম্ভব নয়। তবে আশা করি ধীরে ধীরে শিক্ষকরা এর সুফল পাবেন।’

মাসে জমা ৭৬ কোটি, পরিশোধে প্রয়োজন ১২৫ কোটি

অবসরসুবিধা বোর্ডের হিসাবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ হারে প্রতি মাসে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা জমা হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ থেকে আসে আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা জমা হয়। অথচ প্রতি মাসে জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন হয় গড়ে ১২৫ কোটি টাকা।

ফলে প্রতি মাসেই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জমে থাকা আবেদন অনুযায়ী অবসরসুবিধা খাতে ঘাটতি এখন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টে ঘাটতি প্রায় ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারের সরাসরি আর্থিক সহায়তা ছাড়া সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অবসরসুবিধার জন্য ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২০০ কোটি টাকা। এই বন্ড থেকে ছয় মাস পরপর ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা মুনাফা পাওয়ার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিশাল ঘাটতির তুলনায় এই অর্থ যথেষ্ট নয়।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবসরসুবিধা বোর্ডের জন্য ৭ হাজার ১৭৬ কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সেই অর্থ দেয়নি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সরকার বদলায়, বড় বড় প্রকল্প হয়, নানা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়—কিন্তু অবসরের পর তাদের ন্যায্য পাওনার প্রশ্নে বারবার সামনে আসে ‘তহবিল নেই’ বা ‘টাকা নেই’ যুক্তি। ফলে সারা জীবন শিক্ষাসেবা দেওয়া মানুষগুলো শেষ বয়সে নিজেদের অধিকার আদায়ে অসহায় হয়ে পড়েন।

নরসিংদীর বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ভাই সাইকুল ইসলাম ২০২৫ সালে দীর্ঘ রোগে ভুগে মারা যান। তার অসহায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের পক্ষে তিনি বারবার ইস্কাটন গার্ডেনে আসছেন। তবে নিরাশা ও অপেক্ষা ছাড়া কিছুই নেই তার।

ঢাকা মেইলকে তাইজুল বলেন, ‘ভাবি ও ভাতিজা অফিসিয়াল এসব ঝামেলা বুঝেন না। তাই বারবার আমিই আসছি। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই নাই। এখনও ২১, ২২, ২৩ সালের শিক্ষকরাই কল্যাণ ও অবসরের টাকা পায়নি। আমার সিরিয়াল তো অনেক দূরে।’

যদিও পাওনা সংক্রান্ত নির্দেশনা ভিন্ন। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরসুবিধার টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।

এদিকে, দীর্ঘ সময় অবসরসুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা বোর্ড না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাসের পর মাস বোর্ড গঠন না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

অবসরসুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব। দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত পরিচালনা করেন তাদের পৃথক সচিব। অবসরসুবিধা বোর্ডের নতুন সচিব মো. মোশাররফ হোসেন নিজেও সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষকদের এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

অনিয়মের অভিযোগে গভীর হয়েছে সংকট

শিক্ষকদের অবসর ভাতার বিশাল সংকটের পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অবসর ভাতার অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে তহবিলের অর্থপ্রবাহে ভেঙে পড়ে ‘চেইন অব কমান্ড’। ফলে নিয়মিতভাবে অর্থ জমা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি হয়নি।

তবে বর্তমান সরকার এ সমস্যা সমাধানকে চ্যালঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সরকারের লক্ষ্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধ করা, অন্যদিকে ভবিষ্যতে যাতে আবার এমন সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য নিয়মিত সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে দীর্ঘদিনের স্থবির প্রক্রিয়াটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সরকার ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নিলেও তাতে পুরো সংকট কাটছে না। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার পাওনার অপেক্ষায় এখনও এক লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী। তাই তাদের প্রশ্ন-প্রাপ্য টাকা পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

এমএইচ/এমআর