নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও ডাইস পাকিস্তান থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে পাকিস্তানে বাংলাদেশি পাটের সুতা ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের রফতানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য পাকিস্তান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি তুলনামূলকভাবে কম।
এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তান থেকে পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও ডাইস আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন বিজিএমইএ সভাপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের জুট ইয়ার্ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জীবন রক্ষাকারী ফার্মাসিউটিক্যালস পাকিস্তানে আরও বড় পরিসরে আমদানির জন্য হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
জবাবে পাকিস্তানের হাইকমিশনার এসব প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকদের নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করলে দেশটির শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, বায়ার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সরাসরি ব্যবসায়িক বৈঠক এবং ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করা হবে।
এ সময় দুই দেশের বাজারে ব্যবসার সুযোগ এবং বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে সাফটার (SAFTA) আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আসবে। ফলে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে একটি কার্যকর দ্বিপাক্ষিক বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়।
বাণিজ্য সম্প্রসারণে লজিস্টিকস ও শিপিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সময় ও অন্যান্য লজিস্টিকস সংক্রান্ত বাধা কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে টেক্সটাইল, অ্যাপারেল ও ফ্যাশন খাতের দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন।
একই সঙ্গে টেক্সটাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎকর্ষে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম এবং ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে, এই আলোচনা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এমআর/এফএ