Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

এক ডিমেই ১৫ টাকা, বাড়তি চাপে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

রাজধানীর বাজারে একেকটি ডিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা। নিত্যপণ্যের অন্যান্য অনেক পণ্যের দামের সঙ্গে নতুন করে ডিমের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাবারের খরচে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও ও মোহাম্মদপুরের কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ডিমের বাড়তি দামের বিষয়টি জানা গেছে। বাজারভেদে ডিমের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ দোকানে প্রতি পিস ডিম ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফলে এক ডজন ডিম কিনতে ১৬৮ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

শেওড়াপাড়া বাজারে ডিম কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগেও ডিম তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত। এখন বাজারে এসে প্রতি পিসের দাম ১৫ টাকা শুনতে হচ্ছে। পরিবারের জন্য একসঙ্গে এক ডজন ডিম কিনলে বাড়তি খরচ হয়ে যাচ্ছে। আয় একই থাকলেও বাজারের খরচ বাড়ায় অন্যান্য পণ্য কম কিনতে হচ্ছে।

কাজীপাড়া বাজারের ক্রেতা সেলিনা আক্তার বলেন, ডিম অনেক পরিবারের নিয়মিত খাবার। মাছ বা মাংসের দাম বাড়লে অনেকেই ডিম দিয়ে খাবারের ঘাটতি পূরণ করেন। কিন্তু এখন ডিমের দামও বাড়ায় সেই সুযোগ কমে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য ডিম কিনতে হয় বলে দাম বাড়লেও এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।

আগারগাঁও বাজারের বিক্রেতা মাইনুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচও রয়েছে। ফলে আগের দামে ডিম বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলে, খুচরা বাজারেও দাম কমবে।

মিরপুরের আরেক বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, ডিমের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। পাইকারি বাজারে যে দামে ডিম আসে, তার সঙ্গে পরিবহন ও দোকানের অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়। সরবরাহ কমে গেলে বা পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত খুচরা বাজারে পড়ে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ডিমের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের খাদ্যতালিকায়ও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো অনেক সময় সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ডিম কিনতে পারছে না। কেউ প্রতিদিনের পরিবর্তে এক দিন পরপর ডিম কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের শিশুদের জন্য রেখে বড়দের জন্য ডিমের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন।

মিরপুর ৬০ ফিট এলাকার বাসিন্দা শাহানা আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে তরল দুধের দাম বেড়েছে। এর আগে সয়াবিন তেল, আটা ও চিনির দামও বেড়েছে। এখন ডিমের দাম বাড়ায় সংসারের খাবারের খরচ আরও বেড়েছে। এভাবে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ খাবারের তালিকা কীভাবে ঠিক রাখবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

ডিমের দাম নিয়ে তুলনা করলে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের বাজারেও পার্থক্য দেখা যায়। পাকিস্তানের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ডিমের ডজনের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৫ টাকা। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ডজনপ্রতি দাম প্রায় ১৩৮ টাকা। ভারতের কলকাতাতেও ডিমের ডজনের দাম প্রায় ১১৫ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট বাজারের তথ্য থেকে জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয়, মুরগির খাবারের দাম, বাচ্চার দাম, পরিবহন খরচ ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ডিমের বাজারদর নির্ভর করে। এসব ব্যয় কমানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে ডিমের দামও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

এএইচ/এসআই