পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে বাড়ছে মুরগির দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি মুরগির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে বাড়তি দামে মুরগি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের ওপরও চাপ বেড়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে মুরগির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এসব বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও দোকানভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগি পরিবহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচ আগের তুলনায় বেশি পড়ছে। পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়ে। ফলে খামার থেকে পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।
তারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও মুরগির দাম কমতে পারে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর আগামী দিনের দাম অনেকটাই নির্ভর করছে।
শেওড়াপাড়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে আগের দামে মুরগি বিক্রি করলে তাদের লাভ থাকছে না। পাইকারি বাজারে দাম আরও বাড়লে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।
কাজীপাড়া বাজারের বিক্রেতা মাহিদুর রহমান বলেন, মুরগি সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। খামার থেকে পর্যাপ্ত মুরগি না আসায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন দরে মুরগি কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে মুরগির দাম বাড়লে তা দ্রুত কার্যকর হয়। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা বাজারে সেই প্রভাব আসতে সময় লাগে। এ কারণে মুরগির বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও মূল্যতালিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজার করতে এসে মিরপুরের বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, কয়েক দিন আগেও মুরগি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেছে। এখন বাজারে এসে প্রতি কেজিতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। পরিবারের খাবারের তালিকায় মুরগি নিয়মিত থাকলেও দাম বাড়ায় পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।
আগারগাঁওয়ের ক্রেতা নাসরিন আক্তার মলি বলেন, মাছ ও গরুর মাংসের তুলনায় মুরগি অনেক পরিবারের কাছে তুলনামূলক সহজলভ্য ছিল। এখন মুরগির দামও বাড়তে থাকায় সংসারের বাজার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম থাকায় মাসিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এএইচ/এসআই




