নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় রাজধানীর বাজারে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। আগে যে পরিমাণ সবজি, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতেন, এখন খরচ কমাতে তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন অনেকে। মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আগারগাঁওসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এসব এলাকার বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই সপ্তাহের বাজার করতে বের হয়েছেন। তবে বাজারের ব্যাগে আগের মতো পণ্য না রাখতে পারায় ক্রেতাদের মধ্যে খরচ কমানোর প্রবণতা দেখা গেছে। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্যের পরিমাণ কমিয়েছেন, আবার কেউ তুলনামূলক বেশি দামের পণ্য বাদ দিয়ে কম দামের বিকল্প পণ্য কিনছেন।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, আয় বাড়ার তুলনায় বাজার খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সংসারের অন্যান্য ব্যয়েও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাজারের খরচ সামলাতে কেউ বাইরে খাবার কমিয়েছেন, কেউ পোশাক বা বিনোদনের খরচ কমিয়েছেন। অনেকে আবার মাসের শেষ দিকে প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন।
শেওড়াপাড়া বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগে একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দাম বেশি হওয়ায় দুই থেকে তিন ধরনের সবজি কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। প্রয়োজন থাকলেও বেশি কিনলে মাসের অন্যান্য খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
কাজীপাড়া বাজারের ক্রেতা রুবিনা আক্তারও বাজারে এসে হতাশার কথা বললেন। তিনি বলেন, বাজারে এসে আগে যে টাকা নিয়ে ফিরতাম, এখন একই টাকায় অর্ধেকের মতো পণ্য পাওয়া যায়। ফলে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। মাছ-মাংসের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সবজিও প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে হচ্ছে।
মিরপুর ৬ কাঁচাবাজার এলাকায় কথা হয় ক্রেতা মরিয়ম বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুধু একটি পণ্যের দাম বাড়লে বিষয়টি সামলানো যায়। কিন্তু চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস ও সবজিসহ একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেশি থাকায় মাসিক বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই বাজারের তালিকা করার সময় কোন পণ্যটি না কিনলেও চলবে, সেটি আগে ভাবতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, শুক্রবার সাধারণত বাজারে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। তবে বেশি ক্রেতা এলেও সবাই বেশি পরিমাণে পণ্য কিনছেন না। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো হিসাব করে বাজার করছেন। ফলে বাজারে চাহিদা থাকলেও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকছে না।
আগারগাঁও বাজারের সবজি বিক্রেতা আফতাব হোসেন বলেন, ক্রেতারা এখন আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। কেউ এক কেজি নিতে চাইলে আধা কেজি নিচ্ছেন। অনেকে আবার দাম শুনে পছন্দের সবজি না কিনে অন্য সবজি নিচ্ছেন। এতে বাজারে ক্রেতা থাকলেও অনেকের কেনাকাটার পরিমাণ কমেছে।
এএইচ/এফএ




