নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা রফতানি সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) এবং ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম)-এর সঙ্গে ডিসিসিআইয়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের পৃথক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। এর আগে শুক্রবারও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য ও সেবা আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে রফতানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া আসিয়ান অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পণ্য রফতানির সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এনসিসিআইএমের সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের ব্যবসায়িক যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করে। তবে বাংলাদেশের বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তা শ্রেণির বাজারে মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে। এর সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততাও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব।
বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন এফএমএম সভাপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মালয়েশিয়ায় দক্ষ, পরিশ্রমী ও মানসম্পন্ন জনশক্তি সরবরাহ করে আসছে, যারা দেশটির অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তার মতে, ভবিষ্যতে এসব কর্মী বাংলাদেশে ফিরে গেলে মালয়েশিয়ায় অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে কাজে লাগাতে পারবেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
এদিকে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ডিসিসিআই ও এফএমএমের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড রিজিওনাল গ্রুপিংস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) পরিচালক নাইম আব্দুল রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া দুই দেশের উদ্যোক্তারা প্রায় ৭০টি ব্যবসায়িক ম্যাচ-মেকিং (বিটুবি) সেশনে অংশ নেন। এসব সেশনে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাজার সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্য ও মতবিনিময় করেন তারা।
এমআর/এফএ