বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত ৫ম ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ (ad hoc Accession Working Group) গঠনের সুপারিশ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা। 

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৫ম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেওয়া এই সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান।

বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।

এমআর/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর