বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়াকে আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়াকে আহ্বান
কুয়ালালামপুরের স্থানীয় একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের স্থানীয় একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মুসলিম বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ-সহায়ক সুবিধা ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিবেচনায় মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এ সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের বিষয়টিও তুলে ধরে তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস খাত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল। এর কার্যকর মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মালয়েশিয়ার জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রফতানিকারকদের বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও রফতানি বাড়ানোর আহ্বান জানাই।

পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যের উন্নয়ন এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর