Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

কোম্পানি আইন চূড়ান্তে ব্যবসায়ীদের মতামত গুরুত্ব পাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে সংশোধিত কোম্পানি আইন চূড়ান্ত করতে চায় না। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই আইনটি যুগোপযোগী করা হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’–এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি আইন মূলত ব্যবসায়ীরাই ব্যবহার করবেন। তাই তাদের প্রয়োজন, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদার ভিত্তিতেই আইনটিকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি আইনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার ধরন, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ কাঠামো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি আধুনিক করা জরুরি।

‘সরকার তাড়াহুড়ো করে আইনটি চূড়ান্ত করতে চায় না’ উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংশোধিত আইনটি ব্যবসায়ীদের জন্যই তৈরি হচ্ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রস্তুতি ও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এই সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে দ্রুত মতামত দিয়ে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিভিন্ন দেশের কার্যকর কোম্পানি আইন পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

ই-কমার্সে ৫৮ হাজার অভিযোগ, পাওনা প্রায় ৩,৮৬৯ কোটি টাকা

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন শিল্পমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংস্কারের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানি আইন সংস্কার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের আইন ও ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এমন প্রস্তাব দিতে হবে, যা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এসব প্রস্তাব যেন দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’–এর খসড়া প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বারবিডার সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/জেবি