রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ই-কমার্সে ৫৮ হাজার অভিযোগ, পাওনা প্রায় ৩,৮৬৯ কোটি টাকা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ই-কমার্সে ৫৮ হাজার অভিযোগ, পাওনা প্রায় ৩,৮৬৯ কোটি টাকা 
সংসদে কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

দেশের ই-কমার্স খাতে প্রতারণা ও অনিয়মের ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। 

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। 

এই অবস্থায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জালিয়াতি বন্ধ করতে এবং সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার তিন ধাপের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। 

সংসদ অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে ই-কমার্স খাতের প্রতারণা ও সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স খাতের শৃংখলা ফেরাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। 

তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটায়। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং এবং আলেশা মার্টসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতারিত গ্রাহকরা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিদফতরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাখিলকৃত এসব লিখিত অভিযোগের বিপরীতে দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের পাওনা অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া তদারকি করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছে।

স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ইভ্যালি বা আলেশা মার্টের মতো যেসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। সেই ক্ষতিপূরণ বা টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সরকারের সরাসরি কী পরিকল্পনা রয়েছে?

এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স সেক্টরে অতীতের অনিয়মগুলোর কারণে গ্রাহকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যা বর্তমান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে। ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি চালুর ফলে এখন থেকে প্রতিটি বৈধ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আইনি তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকছে, যা ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

একইসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জমা পড়া ৫৮ হাজারেরও বেশি অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এমএইচএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর