বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহী। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।
পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি, রপ্তানিনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্সসহ বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশ কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দেবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, পাট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এসব খাতকে বহু বিলিয়ন ডলারের রফতানি খাতে পরিণত করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আগামী মাসে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে।
আরও পড়ুন: আরও বাড়ছে মেট্রোরেল যাত্রীদের সুবিধা
ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় উদারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল লেনদেন এবং অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে।
ট্রেড লাইসেন্সের জটিলতা কমানোর বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার পাশাপাশি সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না।
তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার ট্রেড লাইসেন্স একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।
ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে বড় কোনো বাধা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বড় কোনো বাধার চেয়ে প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন লাইসেন্স, অনুমোদন ও ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে যেসব অপ্রয়োজনীয় সমন্বয়হীনতা বা দ্বৈততা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দূর করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার সহজতার সূচকে বাংলাদেশ একসময় অনেক পিছিয়ে ছিল। এখন ব্যবসা সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যত বেশি সম্ভব সরকারি অনুমোদন ও সেবা ডিজিটাল করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে বিভিন্ন সরকারি দফতরে যেতে না হয়। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের উপদেষ্টা নিশা বিসওয়াল। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসেরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এআরএম




