Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

‘এস আলমকে রক্ষা করতে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মালিকানা সংক্রান্ত বিচারিক মামলায় চাপ প্রয়োগসহ এস আলম গ্রুপকে রক্ষা করতে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, মামলা নিষ্পত্তির কাছাকাছি সময়ে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী পরিবর্তনের ঘটনাও বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় এতে ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে নুর নবী মানিক বলেন, সরকারের ভেতরে থাকা এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা সংক্রান্ত বিচারিক মামলায় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা মামলা যখন নিষ্পত্তির কাছাকাছি, ঠিক তখনই ব্যাংকের আইনজীবী পরিবর্তন করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবীকেও পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে সরকার আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিচারের নামে প্রহসনের কোনো রায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা মেনে নেবেন না।

ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে নুর নবী মানিক বলেন, একটি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া চলতে পারে না। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানাই।

গ্রাহক ফোরামের চলমান ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শিগগিরই মহাসমাবেশসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

এ ছাড়া লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, অভিযুক্তদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ, ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধে আইন সংশোধন এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে তাদের আজীবন অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দেওয়া ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানান। তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস, আবেগ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘ দুই মাসেও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং গ্রাহকরা আমানতের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করলে সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছিয়ে না আসার ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টিএই/এফএ