নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘MoU Signing on Co-operation in the Field of Circular Economy’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা যেহেতু বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত, তাই এই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রফতানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, শিল্পখাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকে বহু-পক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারত্ব টেকসই শিল্প উন্নয়ন এবং জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে।
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের Ministry of Economic Affairs and Climate Policy-এর মধ্যে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির জলবায়ু এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মন্ত্রী স্টেইন্টজে ভন ভেল্ডহোভেন। দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
স্টেইন্টজে ভন ভেল্ডহোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এই রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এসব আলোচনাকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতকে জলবায়ু সহনশীল ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমআর/এফএ