সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

দেশের বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রফতানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

তিনি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এলক্ষ্যে বিমান বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি অস্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর