Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দফতরে (ডিএফএটি) উচ্চপর্যায়ের দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, বাণিজ্য সুবিধা, শিল্প সহযোগিতা এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ক্যানবেরায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। 

ডিএফএটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রবি কেওয়ালরাম এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সারা স্টোরির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন সচিব।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা ও সমর্থন চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আরসিইপিতে যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকসেশন প্রশ্নমালা জমা দিয়েছে। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব, প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন আরসিইপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে।

বাংলাদেশ মনে করে, আরসিইপিতে যোগদান দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করবে। এই প্রক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় বাংলাদেশ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন কামনা করেছে। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়েও বৈঠকে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনাময় খাত নিয়েও আলোচনা হয়। অস্ট্রেলিয়ার উন্নতমানের পশম ও তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অস্ট্রেলিয়ার উন্নত মানের প্রাকৃতিক তন্তুর একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মশক্তি উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা এবং ‘বাইল্যাটারেল ট্রেড নেগোশিয়েশনস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।

বৈঠকে আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের প্রক্রিয়া, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পারস্পরিক সমন্বয় এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্টের (টিফা) অধীনে কার্যকরী গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

এমআর/এফএ