বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের (এমপিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, দুগ্ধশিল্প, শীতল সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নত জৈবনিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানির ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বড় ভোক্তা বাজার, কৃষি খাতের সম্ভাবনা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে আমদানি স্বাস্থ্যমান, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, পণ্যের মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্নত খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সনদ ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করা হয়।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধার সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কারিগরি কর্মদল গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট সমন্বয়কারী নিয়োগ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এমআর/এএইচ




