Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

এডিপি বাস্তবায়নে ১৮ চ্যালেঞ্জ, উত্তরণে ৩৬ সুপারিশ

আব্দুল হাকিম

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

  • ‘কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ চালুর প্রস্তাব
  • প্রকল্প এলাকা নির্বাচনেও মিলেছে বড় দুর্বলতা
  • প্রকল্প সংশোধনে সর্বোচ্চ দুইবার সীমা চায় আইএমইডি
  • নিয়মিত তদারকি ও ফলো-আপে জোর আইএমইডির
  • অধিকাংশ প্রকল্পে গড়ে ৫০ শতাংশ বেশি সময় লাগে
  • প্রকল্প গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও মানসম্মত ও কার্যকর করতে চায় সরকার

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বছরের পর বছর ধরে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, দুর্বল পরিকল্পনা, সমন্বয়হীনতা, অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং প্রকল্প পরিচালনায় দুর্বলতার কারণে সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এবার এসব সমস্যাকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের পথও দেখিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

সংস্থাটি এডিপি বাস্তবায়নের পথে ১৮টি প্রধান চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করেছে। একই সঙ্গে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ৩৬টি নীতিগত সুপারিশও দিয়েছে। সম্প্রতি ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ’ শীর্ষক এক উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় সমস্যা শুরু হয় প্রকল্প প্রণয়নের পর্যায় থেকেই। বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক সময় তা পূর্ণাঙ্গভাবে করা হয় না। কোথাও নামমাত্র সমীক্ষা করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, আবার কোথাও স্বাধীন ও অভিজ্ঞ পরামর্শকের মাধ্যমে যাচাই করা হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়, কাজের পরিধি বাড়ে এবং একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন করতে হয়। এতে সময় যেমন বাড়ে, তেমনি ব্যয়ও বেড়ে যায়।

আইএমইডি বলছে, এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা যাচাই এবং একটি 'কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক' চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি সমীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) তৈরিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ বা অনুদানের সম্মতি পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সময়মতো প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করতে পারে না। সমন্বয়হীনতা এবং বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতির কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। এর ফলে আগে করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষার তথ্যও অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিপিপি ও টিএপিপি প্রণয়ন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ঋণ ও অনুদান চুক্তির প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্রয় ব্যবস্থাপনাকেও প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প গ্রহণের সময় সঠিক ক্রয় কৌশল ও সমন্বিত ক্রয় পরিকল্পনা না থাকায় বাস্তবায়নের মাঝপথে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বাজার বিশ্লেষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ক্রয় প্যাকেজিং যথাযথভাবে না করায় দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উভয়ই বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর)-২০২৫ অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয় কৌশল ও ক্রয় পরিকল্পনা প্রকল্প দলিলে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদনের আগেই ক্রয় পরিকল্পনা যাচাই এবং বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুক্তি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

প্রকল্প এলাকা নির্বাচনেও বড় ধরনের দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ভূমি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। পরে বাস্তব অবস্থার সঙ্গে প্রকল্পের অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে নকশা পরিবর্তন করতে হয়, ব্যয় বাড়ে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। এ কারণে প্রকল্প গ্রহণের আগেই বাস্তবভিত্তিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং প্রকৌশলীদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে গুচ্ছ বা ক্লাস্টার প্রকল্প বাস্তবায়নেও সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট লিড মিনিস্ট্রি না থাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন অস্পষ্ট থেকে যায়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হয় এবং প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুরুতেই প্রধান মন্ত্রণালয় নির্ধারণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন এবং নিয়মিত সমন্বয় সভার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

অর্থায়ন পরিকল্পনার দুর্বলতাকেও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পে অর্থায়নের নিশ্চিত উৎস নির্ধারণ না করেই অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আবার ডিপিপিতে উল্লেখ করা ব্যয়ের সঙ্গে এডিপির বরাদ্দেরও মিল থাকে না। এতে মাঝপথে অর্থসংকট তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রকল্প একাধিক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় দ্বৈততাও তৈরি হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। আইএমইডি এ ক্ষেত্রে সরকারের 'অ্যালোকেশন অব বিজনেস' কঠোরভাবে অনুসরণের সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইএমইডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক প্রকল্পে নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু (এনপিভি), ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (আইআরআর) এবং বেনিফিট-কস্ট রেশিও (বিসিআর) বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ঝুঁকি, অর্থের সময়মূল্য কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনায় আনা হয় না। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও প্রাক্কলিত ও প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচকের তুলনামূলক মূল্যায়ন না হওয়ায় সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা এখনও প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান বাধা। মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বাজারমূল্য নির্ধারণে জটিলতা, ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে অনেক প্রকল্পে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজই শুরু করা যায় না। এর ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্পের ড্রয়িং বা নকশা সম্পন্ন না করে কোনো প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে আইএমইডি।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণের মধ্যকার অসামঞ্জস্যকেও বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনে দীর্ঘ সময় চলে গেলেও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় সমন্বয় করা হয় না। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পগুলো সময়চাপের মধ্যে পড়ে এবং পরে বারবার মেয়াদ বাড়াতে হয়।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনা না করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও অনেক প্রকল্পে ক্লাইমেট রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ কিংবা অভিযোজন ও প্রশমন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবকাঠামোর ক্ষতি এবং পুনর্নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, জলবায়ু-সংবেদনশীল সব প্রকল্পে ক্লাইমেট রিস্ক স্ক্রিনিং ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় জলবায়ু কৌশল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে প্রকল্প পরিকল্পনার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।

আইএমইডি বলছে, প্রকল্প সংশোধনের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। অনেক প্রকল্পে একাধিকবার ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে সর্বোচ্চ দুইবার প্রকল্প সংশোধন এবং ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া সর্বোচ্চ দুইবার মেয়াদ বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

জনবল ব্যবস্থাপনায়ও নানা ত্রুটি পাওয়া গেছে। প্রকল্পের শুরুতেই প্রয়োজনীয় জনবল পরিকল্পনা করা না হওয়ায় কোথাও অতিরিক্ত জনবল, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় পদ শূন্য থাকছে। এতে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে এবং বাস্তবায়নের গতি কমছে।

আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রকল্প সমাপ্তির অন্তত ছয় মাস আগে রাজস্ব খাতে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং সমাপ্তির তিন মাসের মধ্যে জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া, অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএমইডি।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোগ্য ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক 'প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পুল' গঠন, একজন কর্মকর্তাকে একটি মাত্র প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া এবং কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) অকার্যকারিতাও সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মিত সভা না হওয়া, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর কারণে ঝুঁকি সময়মতো শনাক্ত করা যায় না।

এ কারণে প্রকল্পের শুরু থেকেই পিআইসি ও পিএসসির নিয়মিত সভা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর ফলো-আপ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বিচ্ছিন্ন কোনো একক কারণ নয়, বরং পরিকল্পনা, অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্রয় ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিচালনা ও তদারকির মতো একাধিক কাঠামোগত দুর্বলতা একসঙ্গে কাজ করছে। প্রকল্পের শুরুতেই বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, অর্থায়নের নিশ্চয়তা, দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, দেশের এডিপি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই প্রকল্প নেওয়া হয়। ফলে বাস্তবায়নের সময় নানা জটিলতা তৈরি হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি সময় লেগে যায়। এতে শুধু প্রকল্প শেষ হতে দেরি হয় না, ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আবার যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অনেক প্রকল্প পরবর্তী অর্থবছরে গড়িয়ে যায়।

এদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার আরও পরিকল্পিত ও বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান এডিপি প্রস্তুতের সময় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রণয়নাধীন পাঁচ বছরব্যাপী উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলপত্রের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য করার মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। সে কারণে বাজেট ঘোষণার পরও প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি এক ধরনের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা দাঁড়াবে, যা সরকারের ইশতেহার ও কৌশলপত্রের সঙ্গে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৬২টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করতে হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, নকশা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক প্রকল্প আগেই নেওয়া হলেও সেগুলোর গুণগত মান, লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা এবং নকশায় বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রকল্প গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও মানসম্মত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এএইচ/এএস