জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
দেশের ব্যাংক খাত থেকে আত্মসাৎ বা লুট হওয়া অর্থ দ্রুত শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার এবং তা আমানতকারীদের স্বার্থে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনটি বলেছে, শুধু দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধনীকরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতকে টেকসই করা সম্ভব হবে না, যদি অতীতের অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের কার্যকর সমাধান নিশ্চিত না করা যায়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় রোববার (১৪ জুন) এক বিবৃতিতে বিএবি এসব জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এই পদক্ষেপের প্রকৃত সুফল পেতে হলে একই সঙ্গে লুট হওয়া সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে।
বিএবি মনে করে, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের পুনরায় ব্যাংকিং খাতে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি খেলাপি ঋণ কমানো এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে একটি কার্যকর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিএবি সতর্ক করে বলেছে, লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সরকারি অর্থে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। এ কারণে পুনঃমূলধনীকরণের পাশাপাশি সংস্কার, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাই আর্থিক খাত সংস্কারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে বিএবি সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এবারের বাজেট দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
টিএই/ক.ম