নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে ডিমের দাম। এক মাস আগেও যে ডিমের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ডিমের এই ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতার কারণেই ডিমের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই ডজন ডিমের দাম ছিল প্রায় ১৪০-১৪৫ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাজার করতে আসা সবুজ আলম বলেন, ডিম ছিল গরিব মানুষের সবচেয়ে সহজ প্রোটিনের উৎস। এখন সেটিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই দশকে ডিমের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০০৬ সালে প্রতি হালি ডিমের দাম ছিল মাত্র ১২ টাকা। ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। ২০১২ সালে ৩৭ টাকা ১২ পয়সা, ২০১৫ সালে ৩৩ টাকা এবং ২০১৮ সালে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরে ২০২১ সালে হালি ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা, ২০২৩ সালে ৫৫ টাকা, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ৫০ টাকা এবং বর্তমানে ২০২৬ সালে তা ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিম উৎপাদন কমেনি, তবে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে খামার থেকে বাজার পর্যন্ত ডিম আনতে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণেও সরবরাহে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারেই ডিমের দাম বেশি। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে ডিমের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য আরো নাগালের বাইরে চলে যাবে।
এমআর/এফএ