দেশের বাজারে প্রায় তিন মাস ধরে চলছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দেশে দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল কোম্পানিগুলো। অবশেষে সরকার লিটারপ্রতি ৪ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমতি দিলেও এখনো বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সম্প্রতি সরকার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন দরে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭৫ টাকা।
বিজ্ঞাপন
তবে দাম বাড়ানোর পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাজার করতে আসা সাইমুম হোসেন বলেন, আগে দোকানে গেলেই তেল পাওয়া যেত। এখন কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেল মিলছে না। দাম বাড়লেও সংকট কমেনি, বরং ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেই পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে যারা বড় পরিসরে মজুত করে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীদেরই নানা চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের ওপরও প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাজার পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে উঠেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাজার তদারকিতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সংকট কাটছে না। তাদের দাবি, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।
এমআর/এফএ




