রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেলের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। অসময়ের ভারী বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শসার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে এখন কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও পেঁপের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে ঠিকমতো সবজি তোলা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো এখন সেখানে ৭০০ টাকাও যথেষ্ট হচ্ছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: বাজারে সেঞ্চুরি হাঁকছে অধিকাংশ সবজি
ডিম ও মুরগির বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। এক মাস আগেও প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই দশকে ডিমের হালির দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৫৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে, যা মাসখানেক আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
মুদি পণ্যের মধ্যেও বেড়েছে চিনি, মসুর ডাল ও পোলাও চালের দাম। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। মোটা মসুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। প্যাকেটজাত পোলাও চালের কেজি এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সরকার সম্প্রতি বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দরে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। তবে দাম বাড়লেও বাজারে এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।

আরও পড়ুন: সরবরাহ বাড়লেও নাগালের বাইরে শীতের সবজি
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সবজি পরিবহনে ট্রাক ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজার তদারকি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
এমআর/এমআই




