মহিউদ্দিন রাব্বানি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার কিছুটা প্রশমন হয়েছে। রোজার আগে বাড়তি চাহিদা, সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা এবং তদারকির ঘাটতির সুযোগে বেশ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষেরা পড়ে সংকটে।
তবে এখন সবজি ও পোল্ট্রির দামে স্বস্তির আভাস মিলছে, আলু–পেঁয়াজের দামে বড় পতন ঘসেছে। যদিও মাছ ও লাল মাংস এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি। আর মুদি পণ্যের বাজার মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে আংশিক স্বস্তি এসেছে। যদিও পুরো চিত্র স্থিতিশীল নয়।
রমজানের ঠিক আগে লেবুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এক মাস আগে ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু ওঠে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। চাহিদাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ তোলেন ক্রেতারা। রোজার এক সপ্তাহ পর সেই লেবুর দাম কমে ৫০ টাকা নেমেছে।
সবজির বাজারে করলা ১২০ থেকে ১৪০, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১২০, কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৬০, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মুরগি ও গরুর মাংসের দামও বাড়ে। ব্রয়লার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ এবং গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ওঠে। খাসির মাংস ১২০০ টাকার ওপরে ছিল।
বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকা, প্রতি ডজন লাল ডিমের দাম ৯৫ টাকা।
রোজার প্রথম সপ্তাহ পেরোতেই আলুর বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িতে ৭ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারেও কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকায় মিলছে। নতুন মৌসুমের সরবরাহ বাড়ায় এ পতন বলে জানান বিক্রেতারা।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অনেক এলাকায় ৩ কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থায়ী দোকানে মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি রয়েছে।
রোজার শুরুতে যে লেবুর দাম নিয়ে আলোচনা ছিল, এখন তা নেমে এসেছে। প্রতিটি লেবু ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের এক হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
শসা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় এসেছে। কাঁচামরিচও আগের তুলনায় কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন
শুল্ক কমলেও চড়া খেজুর বাজার
তবে বেগুনের বাজারে চাপ রয়ে গেছে। কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের চাহিদা বেশি থাকায় এই পণ্যে দাম স্থিতিশীল হয়নি।
পোল্ট্রি খাতে এখন কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ব্রয়লার ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি কক ৩০০ এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতে এসব মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি ছিল।
তবে মাছের বাজারে বড় পরিবর্তন নেই। পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, রুই ৩২০ থেকে ৩৮০, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
গরুর মাংস ৮৫০ থেকে নেমে ৮০০ টাকায় এলেও আগের অবস্থায় ফেরেনি। খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় রয়েছে।
চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা, ময়দা ও ছোলার বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।

ছোলা ও চিনির ক্ষেত্রে রোজার আগে সামান্য চাপ থাকলেও এখন তা আর বাড়েনি। বোতলজাত সয়াবিন তেল, প্যাকেট আটা ও ময়দার দামও আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুদি দোকানিরা।
রমজান শুরুর অস্থিরতার সময় কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বাজার মনিটরিং জোরদার ও সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানায়। সংগঠনটির সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকি ও সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়টি ও সিলিন্ডজিং বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমভিত্তিক সরবরাহ ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও কার্যকর নজরদারি না থাকলে রমজানকে ঘিরে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা দেখা দেয়।
সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে বাজারে আংশিক স্বস্তি এসেছে। সবজি, আলু–পেঁয়াজ ও পোল্ট্রিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও মাছ ও লাল মাংস এখনো চড়া। মুদি পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকায় সামগ্রিক চাপ কিছুটা কমেছে। এখন দেখার বিষয়, রমজানের বাকি সময়জুড়ে এই স্থিতি বজায় থাকে কি না।
এমআর/জেবি