Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে লেবু বাগান ও খামার উচ্ছেদ, ৩৭ একর বনভূমি উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ৩৭ একর বনভূমি দখলমুক্ত করেছে সিলেট বন বিভাগ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) পরিচালিত অভিযানে বনভূমিতে গড়ে তোলা লেবু বাগান ও গরুর খামার উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ, খামার ও জলাধার নির্মাণের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ৩৭ একর নয়, পুরো লাঠিটিলা বনাঞ্চলে নিরপেক্ষ জরিপ চালিয়ে সব অবৈধ দখল চিহ্নিত ও উচ্ছেদ করতে হবে।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিলেট বন বিভাগ।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিলেট বন বিভাগ।

এর আগে, লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বনভূমি দখল, অবৈধভাবে কৃষিকাজ ও স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা, বনজ সম্পদ ধ্বংস এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান।

অভিযোগে শুকনাছড়া গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মো. রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনুমানিক ২০ হেক্টর বনভূমি দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়। বনাঞ্চলের গভীরে বসতবাড়ি নির্মাণ, লেবু বাগান ও গরুর খামার স্থাপনের পাশাপাশি একাধিক বড় জলাধার তৈরি করে মাছ চাষের অভিযোগও আনা হয়েছিল।  এ ছাড়া বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ কাটা ও বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

ওই অভিযোগ এবং বনভূমি উদ্ধারের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার লাঠিটিলা বিটের ৩৭ একর বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিলেট বন বিভাগ।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিলেট বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে রইছ উদ্দিনের দখলে থাকা লেবু বাগান ও মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদউদ্দিন।

এই অভিযান নেতৃত্ব দেন লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা মো. সাজন। তিনি বলেন, দখলকৃত ৩৭ একর বনভূমি এখন আমাদের দখলে ফিরে এসেছে।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন বলেন, আমি লাঠিটিলা বিটের প্রথম সারির ৪ নম্বর ভিলেজারের সন্তান। লাঠিটিলা বনে অনেকেরই অবৈধ দখল রয়েছে। আমি একা কী অপরাধ করেছি? উচ্ছেদে আমি বিচলিত নই। তবে আমার দাবি, লাঠিটিলা বনে কারও যেন কোনো অবৈধ দখল না থাকে।

জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদউদ্দিন বলেন, লাঠিটিলা বনের মোট ৩৭ একর বনভূমি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বনের অন্যান্য অবৈধ দখলও উচ্ছেদ করা হবে।

উল্লেখ্য, লাঠিটিলা পাথারিয়া হিলস্ রিজার্ভ ফরেস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বনাঞ্চলটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, বনভূমি দখল, গাছপালা ধ্বংস ও জলাধার নির্মাণের কারণে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রতিনিধি/এএম