শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দালালের খপ্পরে পড়ে স্বপ্নভঙ্গ: অনাহারে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

দালালের খপ্পরে পড়ে স্বপ্নভঙ্গ: অনাহারে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু
মৃত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নায়িম আহমদ। ছবি: ঢাকা মেইল

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নায়িম আহমদ (২৪)। ভালো কাজ ও উচ্চ বেতনের আশ্বাস দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন তিনি। কাজ হারিয়ে ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে অর্থাভাবে খাবার ও চিকিৎসা না পেয়ে কম্বোডিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন এই তরুণ।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে কম্বোডিয়ার সমুদ্র বন্দর নগরী সিয়ানোউকভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নায়িম কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরিফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লালারচক গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মো. ইয়ামিস আলীর ছেলে। স্থানীয় দালাল জুনেদ আহমদের মাধ্যমে ভালো কাজ ও উচ্চ বেতনের লোভে পড়ে প্রায় এক বছর আগে কম্বোডিয়ায় যান তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে সিয়ানোউকভিলে নির্মাণশ্রমিকের কাজে যুক্ত করা হয়। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ হারান তিনি। এরপর দালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে আর খুঁজে পাননি।

এদিকে কম্বোডিয়ায় অবস্থানের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কাজ পাওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন নায়িম। অর্থাভাবে দেশে ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যায় তার। পরিচিতজন না থাকায় সিয়ানোউকভিলের সমুদ্র তীরবর্তী একটি ঝুপড়িঘরে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। দিনের পর দিন অনাহারে কাটতে থাকে তার।

একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নায়িমের মা মাহাসিফা বেগম বলেন, আমার বুকের ধনই না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। আমি ছেলের মুখ শেষবারের মতো দেখতে চাই। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

শরিফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিজ আহমেদ বলেন, নায়িমসহ এলাকার আটজন তরুণ স্থানীয় জুনেদ আহমদ নামে এক দালালের প্রলোভনে পড়ে জমি বিক্রি করে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন। ভালো কাজের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের মূলত ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছিল। তারা ওই দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নায়িমের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দালাল জুনেদ পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর