Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ এএম

প্রায় দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাত এবং মজুতে অনিয়মের অভিযোগে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাদী ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, তৎকালীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক। তাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক ছাড়া অন্য তিন কর্মকর্তা বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়ার ঘটনা রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে চাল ও ধানের মজুতসংক্রান্ত নানা অসংগতির প্রমাণ পায় এনফোর্সমেন্ট দল। খাদ্য শস্য মজুদ, সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধে নানা ধরণের অসংগতি দেখতে পান দুদকের কর্মকর্তারা। এসব অসংগতির কারণে এজাহারে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া কুড়িগ্রাম সদরের শিশু নিকেতন স্কুল সংলগ্ন গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পায় এনফোর্সমেন্ট দল। যার মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। এসব চালের সংগ্রহ, ওজন, মজুত কিংবা পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ কোনো নথি দেখাতে পারেননি গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। এজন্য তার বিরুদ্ধে পৃথক আরও একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে দুদদ অভিযোগ করেছে, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে মজুত ও সংগ্রহ সংক্রান্ত নথিতে অসংগতি তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছে। তদস্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পেলে তা আমলে নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছে দুদক।

মামলার বাদী ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন,অভিযানের পর আমরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা দায়ের করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন,মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে জানলাম। এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

প্রতিনিধি/ইএইচ