জেলা প্রতিনিধি
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চরাঞ্চল। নদীবেষ্টিত এসব জনপদের কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে চলছে সন্ত্রাসী তৎপরতা, দখল-আধিপত্যের লড়াই ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুট এবং গোলাগুলি-সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ দমনে আবারও পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন মামলার ২৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে জেলা পুলিশের প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নেন।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত। তাদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।
অভিযানে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এসব বিরোধের জেরে প্রায়ই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং কৃষিজমির ফসল লুটের অভিযোগও রয়েছে।
এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফসল ফলিয়েও তা নিরাপদে ঘরে তুলতে পারবেন কি না- সেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অনেক কৃষককে। নদীবেষ্টিত দুর্গম জনপদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরাঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ও ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরেও এসব এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে অপরাধমূলক তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার ভোররাত থেকে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়। চরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়েছে।
দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধের বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রতিনিধি/এসআই