জেলা প্রতিনিধি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ এএম
মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় সিংজুরী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— পূর্ব কোশুন্ডা গ্রামের আব্দুল মান্নান (৫০), কাশেম (৪৪), নান্নু (৪২), আব্দুল্লাহ, জাহিদ (২২), পলাশ (১৮) ও রফিক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত আব্দুল মান্নান বলেন, কালিগঙ্গা নদীতে কুশুন্ডা এলাকায় একটি চর জেগে উঠেছে। ওই চরের আশেপাশে আমাদের গ্রামের মানুষজনের জমি রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে একটি চক্র কয়েক দিন ধরে সেখান থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে ট্রলার ও বাল্কহেড ভরে। নদী থেকে মাটি কাটার কারণে আমাদের গ্রামের ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেজন্য তাদের বাধা দেয় গ্রামবাসী। এ সময় মাটিকাটার সঙ্গে জড়িত লোকজনের সঙ্গে গ্রামবাসীর তর্কবির্তক হয়। তার কিছুক্ষণ পরে ঘিওর উপজেলার সাবেক যুবদল নেতা আল আমিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা সম্রাট, লোকমান হোসেন, বিএনপি নেতা আখতার মেম্বার, হযরত আলী, ইউপি সদস্য গুলজার ও মানিকসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক একটি বাল্কহেডে করে ঘটনাস্থলে এসে গ্রামবাসীদের ওপর লোহার পাইপ, লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে গ্রামের সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে জানানো হয় বাইরের লোকজন গ্রামে হামলা করেছে। পরে গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চিকিৎসাধীন আবস্থায় আবুল কাশেম বলেন, কালিগঙ্গা নদীতীরের ওই চরে তাদের প্রায় ১১ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে ভূট্টা ও তামাকসহ বিভিন্ন শস্য আবাদ করা হয়। এসব জমি নদীতে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষায় বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা সম্রাট মিয়া বলেন, নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে ছিলাম আমি।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন দাবি করেন, চরে জমির মাটি কিনে নিয়েছি আমরা কয়েকজন। বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় বেশকিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে এবং আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছে। পরে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এফএ