জেলা প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
রিংয়ে প্রতিপক্ষের ঘুষি সামলে পাল্টা আঘাত করার কৌশল আয়ত্ত করেছিলেন নিজেই। কঠোর অনুশীলন আর বক্সিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে ধীরে ধীরে নিয়ে গেছে প্রশিক্ষকের ভূমিকায়। এখন নিজের শেখা কৌশল ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্যদের মাঝে। স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে বক্সিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন গাইবান্ধার সুমন মিয়া।
সুমন মিয়ার (২৬) বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে। তার বাবা সেলিম মিয়া। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থেকেই বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে চলতি বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এখন স্থানীয় পর্যায়ে বক্সিং শেখাচ্ছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে বক্সিংয়ের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সুমন।
প্রশিক্ষণে শুধু ঘুষি চালানোর কৌশল নয়, খেলোয়াড়দের ফুটওয়ার্ক, শরীরের ভারসাম্য, আক্রমণ ও প্রতিরোধের কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নতুনদের বারবার অনুশীলন করিয়ে ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সুমনের প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের অনেকেই বক্সিংকে ভবিষ্যত ক্যারিয়ার হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। কেউ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, আবার কেউ আত্মরক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে বক্সিং শিখছে।
বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পর এখন সেই শেখাটাই অন্যদের শেখাচ্ছেন সুমন। স্থানীয় পর্যায়ে শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীকে বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে তার এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
একসময় যিনি নিজে বক্সিং শিখতে রিংয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন তিনিই দাঁড়াচ্ছেন নতুনদের পাশে। নিজের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন অন্যদের স্বপ্নও। আর সেই স্বপ্ন— গাইবান্ধার মাটি থেকে উঠে আসবে নতুন নতুন বক্সার, যারা একদিন জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচয় তৈরি করবে।
মেহেদী হাসান (১৩) নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সুমন ভাই খুব যত্ন নিয়ে আমাদের বক্সিং শেখান। প্রথমদিকে বক্সিং সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না। তিনি ধাপে ধাপে ফুটওয়ার্ক, পাঞ্চ, প্রতিরোধ ও রিংয়ে কীভাবে চলতে হয়— এসব শেখাচ্ছেন। তার প্রশিক্ষণে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
সুমন মিয়া বলেন, বক্সিং শেখার পেছনে আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক ফজলে রাব্বী রুশো স্যারের অবদান সবচেয়ে বেশি। তার পরামর্শ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি এই খেলায় আসি।
তিনি মনে করেন, বক্সিং তার কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা শেখারও মাধ্যম। নিজে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। তার লক্ষ্য, গাইবান্ধা থেকে ভালো মানের বক্সার তৈরি করে তাদের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা।
সুমন মিয়া আরও বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক তরুণের মধ্যেই প্রতিভা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশিক্ষণ, সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে গাইবান্ধা থেকেও জাতীয় পর্যায়ের বক্সার তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান জানান, সুমন মিয়া এই ফেডারেশন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অর্জিত জ্ঞান তিনি স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন— এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
প্রতিনিধি/এফএ