গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে নিজ বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম (২৭) পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে স্ত্রী শাহিনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ওই সময় শাহিনা মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইসিজি করার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পরপরই সিয়াম হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার আচরণে সন্দেহ হলে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ শাহিনার মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।
অন্যদিকে সিয়াম নিজ বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করার পরই সিয়াম দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি উপস্থিত লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছিল।
এদিকে শাহিনার পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের মা রহিমা বেগমের দাবি, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিয়াম শাহিনাকে মারধর করতেন। সিয়াম মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের চাচা মাজিদুর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর কয়েক বছর আগে শাহিনা ও সিয়ামের বিয়ে হয়। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, ‘শাহিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।’
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনায় মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
প্রতিনিধি/এমআই




