Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নওগাঁয় টালমাটাল চালের বাজার, এক মাসে আতপের কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

জেলা প্রতিনিধি

৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

ধান-চাল উৎপাদনে দেশের শীর্ষ জেলা নওগাঁ। বিশেষ করে এখানকার সুগন্ধি চালের চাহিদা রয়েছে সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। তবে গত এক মাসে জেলার চালের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক অস্থিরতা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি আতপ চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে এ চালের দাম বেড়েছে ৮০ টাকা। একই সঙ্গে কাটারিসহ প্রায় সব ধরনের সরু চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের সরু চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কাটারি চালের শর্টার ও নন-শর্টার উভয় ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৭৬ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে। স্বর্ণা-৫ জাতের চালের দাম ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা কেজি। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৫৮ টাকা।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি আতপ চালের দাম। এক মাস আগে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া এ চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

আতপ চাল কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৩ কেজি আতপ চাল কিনতে এসে দেখেন, কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম বেড়ে গেছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিয়ে বাড়িতে হাজির প্রেমিকা, লজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা

আরেক ক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, পরিবারের জন্য পাঁচ কেজি চাল কিনতে এসে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। তার ভাষায়, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়বে।

খুচরা ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে চালের ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়িক জীবনে সুগন্ধি আতপ চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি তিনি কখনো দেখেননি। প্রতিদিনই ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ারের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই বড় কিছু মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ চাল মজুত করেছে। তারাই এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

তবে মিল মালিকদের দাবি, চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ধানের উচ্চমূল্য এবং সরকারি অনুমোদনে আতপ চাল রফতানিই প্রধান কারণ।

ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের ব্যবসা ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি মিল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল চুরি করতে এসে সাইকেল রেখে পালাল চোর

মফিক উদ্দিন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস ধরে সরকার আতপ চাল রফতানির অনুমতি দেওয়ায় বড় পরিসরে রফতানি হচ্ছে। এতে বাজারে আতপ চালের সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য সরু চালের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

নওগাঁ চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, চিনিগুড়া একটি বিশেষায়িত সুগন্ধি চাল। এর উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা অনেক বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে দাম বেড়েছে, তা পুরোপুরি স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে কারা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাটে প্রতি মণ কাটারি ধান প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং আতপ ধান প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে চাল উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে।

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার বলেন, আতপ চাল রফতানির প্রভাবেই বাজারে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। জেলায় অটোমেটিক ও হাসকিং মিল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪০০টি চালকল রয়েছে। খাদ্য বিভাগ নিয়মিত বাজার ও মিলগুলো তদারকি করছে। অবৈধ মজুতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।