বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

বিয়ে বাড়িতে হাজির প্রেমিকা, লজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিয়ে বাড়িতে হাজির প্রেমিকা, লজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা
নেত্রকোনা থানা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ছেলের বিয়ের আয়োজন ভেঙে যাওয়ার পর সুরুজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। তার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) বিয়ের আসরে এক তরুণী এসে নিজেকে হেলালের প্রেমিকা দাবি করায় বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। পরে কনেপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বরযাত্রী বাড়ি ফিরে আসে। রাতে বাড়ির পাশে একটি আমগাছে গলায় ফাঁস দেন সুরুজ মিয়া।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেলাল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর গানবাজনাসহ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিয়েবাড়িতে দুই তরুণী উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রামের পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮), অন্যজন তার মামাতো বোন মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (২৮)।

জান্নাতী খাতুনের দাবি, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা একসঙ্গে ছিলেন এবং গত ২৮ জুলাই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে হেলাল মুঠোফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় তাদের বিয়ে হয়নি। জান্নাতী আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। পরে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

জান্নাতীর এসব দাবি বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বর ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ছেলের বিয়ের আসরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া এবং বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি বলে তারা মনে করছেন।

রাত ১১টার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সুরুজ মিয়া। তার স্ত্রী হেলেনা তাকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, বিয়ের আসরে দুই তরুণী এসে একজন হেলালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকার দাবি করেন। এরপর বিয়ে ভেঙে যায়। বরপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে বলে তিনি শুনেছেন। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় হতাশা, অপমান ও লজ্জা থেকে সুরুজ মিয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তার ধারণা।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর