images

সারাদেশ

দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস ডুবি: চালক-হেলপারসহ গ্রেফতার ৩

জেলা প্রতিনিধি

০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

​মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন (৩৮) ও আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেন (২২)।

এ ছাড়া ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫৬৪৯) বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে ফেরির অবকাঠামো এবং যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

​নৌপুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন ঘাটে দায়িত্বরত নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা। নির্দেশনা মেনে বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে রওনা হন।

​যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পরপরই চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া ও অবহেলামূলক গতিতে চালাতে শুরু করেন। পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না উঠে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে পাশে থাকা ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। এরপর বাসটি ফেরির শেষ প্রান্তের র‌্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র‌্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।

​নৌপুলিশ জানায়, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর বাসসহ চালক নদীতে পড়ে যাওয়ার পর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

​দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় ঘটনার দিন বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলা হয়। বর্তমানে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটি জব্দ করে নৌপুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌপুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

​গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর নদী থেকে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মালামাল যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এফএ