শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি: দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ৩৭ জন যাত্রী। পূর্ব নির্দেশনা মেনে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় এই যাত্রীরা অলৌকিকভাবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পান। তবে এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন। 

এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।


বিজ্ঞাপন


প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা ও তদন্তের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়াও, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও একটি পৃথক ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। বাসটির ‘জাহাঙ্গীর’ নামে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু ফেরিতে না উঠে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ডালায় (র‍্যাম্প) প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে। আঘাতের তীব্রতায় ফেরির ডালা ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সহায়তায় নদী থেকে দ্রুত বাসটি উদ্ধার করে। বর্তমানে ঘাটটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চলছে। বাসের ভেতরে থাকা চালক ও হেলপারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা আশঙ্কামুক্ত।

পরিদর্শনে এসে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘আজকে আমরা একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। বাসে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন, যারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগেই বাস থেকে নেমে গিয়েছিলেন। মাত্র চালক ও হেলপার বাসে ছিলেন, তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।’ 


বিজ্ঞাপন


প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বিষয়টির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বাসটি উদ্ধারের পরেও তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘গতবারের একটি দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন—যত কষ্টই হোক না কেন, ফেরিতে বাস ওঠার আগে এবং ফেরি থেকে বাস নামার সময় সব যাত্রীকে অবশ্যই বাস থেকে নামাতে হবে। বাসে বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ ও শিশু থাকে, তাই মানুষকে নামানো অনেক কষ্টের কাজ। তারপরও আমরা এটি শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, আমরা নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেছি বলেই দেশের ইতিহাসে এমন একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে ৩৭টি প্রাণ বেঁচে গেল।’ 

ঈদুল আজহার আগে যাত্রী সাধারণের ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও সুন্দর করতে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন দিনরাত কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সরকারি নিয়মকানুন মেনে ঝুঁকিমুক্তভাবে যাতায়াত করার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, রাজবাড়ী জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/ক.ম/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর