images

সারাদেশ

এক সড়কের কাজ শেষ না করে, আরেকটি শুরুর আগেই বিল উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি

০৮ মে ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একাধিক সড়ক নির্মাণ ও পুরনো সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সময় শেষ হলেও একটি সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না করেই সিংহভাগ টাকা এবং আরেকটি সড়কের নির্মাণকাজ শুরুর আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার। সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলাবাসী।

এদিকে অন্য আরেকটি সড়কের নিম্নমানের নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ঠিকাদার ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। মারধরের ঘটনায় প্রকৌশলী ঠিকাদার লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন

চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়কের গর্তগুলো যেন ছোট-ছোট পুকুর!

উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নবীনগর পৌর এলাকার আলিয়াবাদ থেকে গোপালপুর পর্যন্ত ৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১০ ফুট প্রস্থের রাস্তার নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসেন। রাস্তার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৯ টাকা। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেন ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেন। 

B-Baria3

এলজিইডি জানায়, নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৪ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা কামাল চলতি বছরের গত ২ মার্চ কাজটির কার্যাদেশ পান। কিন্তু ঠিকাদার মোস্তফা কামাল কাজ পেলেও তা বাস্তবায়ন করছেন তার আপন ভাই ঠিকাদার লোকমান হোসেন। কার্যাদেশ পাবার একদিন পরই গত ৪ মার্চ ১ কোটি ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ টাকার বিল উত্তোলন করেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। এত দ্রুত বিল উত্তোলন করায় উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ মোস্তাফিজুর রহমান চেরাগীকে শোকজ করেন উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আলী। জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

যুবদল ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষিজমি ও খাল ভরাটের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার লোকমান হোসেন সড়কের তিন কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করে বিল উত্তোলন করেছেন। তিন কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেছেন। যে কারণে সড়কটির বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, কাজ করেছে তিন কিলোমিটার। সেটিও নিম্নমানের কাজ হয়েছে, দায়সারাভাবে কাজ করেছে।

রতনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, পুকুর পাড়ে আগে ওয়াল ছিল। ওয়াল ভেঙে ইট নিয়ে গেছে। শুনছি রাস্তা ২৪ ফুট প্রশস্ত হবে। পুকুর সেচে মাটি তুলেছে। ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখেছে। রাস্তার যে অবস্থা যেকোনো সময় ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। শুনেছি টাকা তুলেছে।

B-Baria2

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষে সড়কটির নির্মাণকাজ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। কিন্তু সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে অভিযোগে গত ১৪ এপ্রিল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশ্ন করায় উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে মারধর ও বাঁশ নিয়ে তাড়া করে লোকমান ও তার গাড়ি চালক। এঘটনায় পরদিন প্রকৌশলী নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন

২২ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে কাটা ধানের দাম মাত্র ১০ হাজার টাকা!

ঠিকাদার লোকমান পলাতক রয়েছেন। একাধিকার চেষ্টা করেও মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়ায় লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, জীবনগঞ্জ-শাহপুর সড়কের বিল উত্তোলনের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানো হয়েছে। আলিয়াবাদ-গোপালপুর সড়কের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যও অভিযোগ করেছেন। সব কাজ পড়ে আছে, বিলম্ব হচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/জেবি