উঠে গেছে পিচ, তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়কটির কোথাও দেবে গেছে, কোথাও আবার ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কে থাকা গর্ত এখন ছোট-ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, রোগী ও ব্যবসায়ীদের কাছে চরম ভোগান্তির নাম চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সড়ক চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক। সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। আখাউড়া স্থলবন্দর এবং সিলেট-কুমিল্লাগামী গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকে। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে বিজয়নগর উপজেলার অংশের দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুরো সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের সৃষ্ট হওয়া গর্তে পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়ে চলছে। বিপাকে পড়ছে যাত্রী সাধারণ ও পরিবহন চালকরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রধান সড়কের বিজয়নগর অংশে বিভিন্নস্থানে খানাখন্দে ভরা। বর্তমানে সড়কটি বেহাল অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এরমধ্যে চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর, সিঙ্গারবিল এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়কটির কোথাও দেবে গেছে, কোথাও আবার ঢেউয়ের মতো উঁচুনীচু হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত এখন ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে, যা চলাচলকে করে তুলেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। মেরামতে বাড়ছে ব্যয়। এদিকে সড়কের পাশে ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় সড়কের জমে থাকা পানি সরতে পারছে না। অপর দিকে সড়কের অধিকাংশ স্থানে সড়ক সংলগ্ন বাসিন্দারা তাদের বাড়ির পানি নিষ্কাসনের পাইপলাইন সড়কে দিয়ে রেখেছে। যার কারণে বাসা বাড়ির পানি এসে সড়কটিতে সারা বছরই কাঁদাপানিতে জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।

বিজ্ঞাপন
প্রায় ১ বছর আগে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গর্তগুলো ইটেরখোয়া দিয়ে ভরাট করা হলেও এটার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা আরো বিপজ্জনক।
পথচারী এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া জানান, সড়কটি খুবই ভাঙাচোরা আর বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো তলিয়ে গেছে। সড়ক খারাপ হওয়ায় গাড়ির সংকট আর অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সীমাহীন কষ্টতো আছেই।

সিএনজি অটোরিকশা চালক রুবেল মিয়া জানান, এ সড়কটির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা। প্রায়ই যানবাহন গর্তে আটকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

চম্পকনগর ও চান্দুরা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। বিশেষ করে আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের মধ্যে বিজয়নগর অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় এখন পুরো সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে, চান্দুরা-সিঙ্গারবিল-আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়কটির টেকসই উন্নয়নের জন্য এলজিইডি আওতাভুক্ত থেকে সরিয়ে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দাবি উপজেলাবাসীর। এদিকে, সড়কটি রোডস অ্যান্ড হাইওয়েতে সংযুক্ত করে প্রস্তুতকরণ ও টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি করে বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
সড়কটির টেকসই উন্নয়ন করে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।
প্রতিনিধি/এসএস




