১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৬ এএম
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলপথের জয়পুরহাট অংশে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দ্রুতগামী আন্তঃনগরসহ সব ট্রেন। এই পথের বিরামপুর রেলগেট থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত দুর্বল রেললাইনে দীর্ঘদিন থেকে ধীর গতিতে ট্রেন চলাচল করলেও কাটছে না দুর্ঘটনার শঙ্কা। রেল পথের এই ৬৩ কিলোমিটার অংশের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেলেও নেওয়া হয়নি মেরামতের উদ্যোগ। এ অবস্থায় যেকোন সময় লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৬৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার রেল পথে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে প্রায় এক ডজন আন্তঃনগর ও সব মেইল ট্রেন। এই পথের জয়পুরহাটের তিলকপুর, জামালগঞ্জ,পাঁচবিবি,বাগজানা ও দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি হাকিমপুর অংশে রেললাইনের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে ভেতরের রড বের হয়ে আছে। অনেক জায়গায় রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও নেই। আবার রেল লাইনের জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়েবড়ে। জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকায় চলাচলের সময় ট্রেনের প্রেসারে রেললাইন ওঠানামা করে। দেখে মনে হয় এই বুঝি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটবে!
মাঝে মধ্যে মেরামত করা হলেও ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ট্রেন। গত ঈদুল ফিতরের দুদিন আগে (১৮ মার্চ) একটি ট্রেনের নয়টি বগি লাইচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যেখানে প্রায় ২০০ যাত্রী আহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সেই থেকে বাগবাড়ির ওই দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে প্রতিটি ট্রেন ধীর গতিতে যাতায়াত করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলে যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
রেললাইনের পাশের পাঁচবিবি উপজেলার কোকতারা গ্রামের কৃষক শাহআলম, মিজানুর, রফিকুল ও মোজাহিদসহ কয়েকজনের অভিযোগ, রেললাইনের এ এলাকায় অন্তত পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেলেও তা মেরামত করা হয়নি। তারা বলেন রেল লাইনের নিচে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ট্রেন পার হওয়ার সময় ওই জায়গা দেবে যায়। ট্রেনের প্রেসারে লাইন তখন আপ-ডাউন করে। অনেক সময় লাইনের নিচে বস্তা দিয়েও ট্রেন পার হয়ে গেছে। এ ছাড়া লাইনের পাথরগুলোও আর আগের মতো পরিস্কার করে না রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে একটু বৃষ্টিতেই মাটি মিশ্রিত পাথরগুলো দেবে যায়।
রেল বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৬৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার রেললাইন দেখভাল করার জন্য যে সংখ্যক জনবল প্রয়োজন তার অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি দীর্ঘদিন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কেউ নেই। ১০ জন কী-ম্যান পদ দীর্ঘদিন খালি। অথচ এই কী-ম্যানদের দায়িত্ব হলো প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যেই রেললাইনের অবস্থা দেখে প্রতিবেদন দেওয়া। যে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য পদের লোকজন। আবার চারজন ট্রলিম্যানের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে আছেন একজন। বেলোম্যানের দুটি পদই খালি দীর্ঘদিন। হেমারম্যান থাকার কথা তিনজন, আছেন একজন। ফলে ইচ্ছে থাকলেও জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় লাইন মেরামতে বিলম্ব ঘটে।
রেল লাইনের নানা সংকটের কথা স্বীকার করে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা মোকাবেলা করে আমরা যাত্রীদের ট্রেনযাত্রা নিরাপদ করার জন্য কাজ করছি। ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ সার্বক্ষণিক পরিদর্শনসহ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হলে ট্রেনের চলাচল নিয়ে সব ধরনের শঙ্কা কেটে যাবে।
প্রতিনিধি/ক.ম/