নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে পাঁচ বছর পর পাল্টে গেছে ফলাফল। আদালতের নির্দেশে ভোট পুনর্গণনায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে বিএনপি নেতা মো. সোহেল আমিনকে মেয়র ঘোষণা করেছে।
নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের আদেশে সেই সময় জোর করে হারিয়ে দেওয়া প্রার্থী কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করে ২ মার্চ তারিখে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি সামনে আসে শনিবার ৬ মার্চ তারিখে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধিত গেজেটে বলা হয়, সেই সময় নির্বাচিত ঘোষণা করা লুৎফুর রহমানের নাম বাতিল করে সেথায় মো. সুহেল আমিনের নাম প্রতিস্থাপন করা হলো।
অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়ে নির্বাচনের পরপরই মামলা করেছিলেন বিএনপি নেতা সুহেল আমিন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইবুনালের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত রায়ে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী মো. সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সোহেল আমিনের ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিলো এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে ‘নির্বাচিত হয়েছেন’ মর্মে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিলো। অথচ, গত ১০ নভেম্বর আদালতের সামনে ভোট পুনঃগণনায় দেখা গেছে- স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহেল আমিন ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। এর পর ৭ জানুয়ারি তারিখে প্রদত্ত রায়ে তাঁকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে গেজেট প্রকাশের পর সোহেল আমিন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সেই সময় ক্ষমতার প্রভাবে জোরপূর্বকভাবে ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি এই ফলাফলের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম। তিন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুনরায় ভোট গণনা করে প্রমাণ পেয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশোধিত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় শপথ প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। আশা করি, শীঘ্রই মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবো।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে মেয়র পদ গ্রহণ এবং সম্মানী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করার কারণে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো অধিকতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করা মেয়রকে সকল গৃহীত ভাতা ও সুবিধা ফেরত দিতে হবে এবং নির্বাচনে অনিয়মের কারণে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৮৩২ ভোট দেখিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন- রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। পরে সেই অনুযায়ী গেজেট প্রকাশিত হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সোহেল আমিন পেয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট। মেয়র প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। সেই সময়ের ঘোষিত ফলাফলে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন নারিকেল গাছ প্রতীকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৩ ভোট পান। মো. শরিফুল হক ২ হাজার ৫২০ ভোট পেয়েছিলেন, কাওছার আহমদ ৬১৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজির আহমদ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছিলেন ২১২ ভোট।
তিনটি কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম করে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী দেখানো হয়েছিলো। আদালতের গণনায় দেখা যায়, এই তিন কেন্দ্রে নৌকার ব্যালট বান্ডিলে ৫৫৪ টি সাদা ব্যালট ঢুকানো হয়েছিলো। আরও কিছু অনিয়ম করা হয়। এতে ৬৮৪ ভোটে সুহেল আমিন এগিয়ে থাকলেও লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিলো।
সুহেল আমিন বলেন, ‘সেই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসারদের বিরুদ্ধেও তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’
এমএইচএইচ/এমআই