images

সারাদেশ

লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

মহিউদ্দিন রাব্বানি

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারদের গুদামে খুঁজে পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে তা মিলছে দ্বিগুণ দামে। একদিকে সারের কৃত্রিম সংকট, অন্যদিকে ভেজাল সারের রমরমা কারবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সরেজমিনে আদিতমারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রবি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মাঝে হাহাকার। আলু ও অন্যান্য ফসল রোপণের জন্য টিএসপি সারের তীব্র প্রয়োজন থাকলেও বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলাররা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন ‘সার নেই’। অথচ পাশের খুচরা দোকানেই সেই সার ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। 

 

 

চরিতাবাড়ী এলাকার কৃষক সুজন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলু রোপণের সময় টিএসপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩২০০ টাকা দরে কিনেছি। ডিলাররা সার বাইরে বিক্রি করে দেয়, আর আমাদের বলে বরাদ্দ নেই।’

কৃষকদের প্রধান অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তাদের দেখা মেলা ভার। অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল ডিলারদের রেজিস্টার খাতায় সই করেই দায়িত্ব শেষ করেন। এই সুযোগে ডিলাররা অবৈধভাবে সারের মজুদ সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

অনিয়মের বিষয়ে কোনো কৃষক অভিযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তারা দায় চাপান প্রশাসনের ওপর। তাদের দাবি, ‘এসিল্যান্ড স্যার ছাড়া অভিযান সম্ভব নয়।’  

প্রশাসনের এমন রশি টানাটানির সুযোগে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগ থেকে দুয়েকটি নামমাত্র অভিযান চালানো হলেও তাতে মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাকে সামান্য জরিমানা করেই দায় সারছে প্রশাসন। কৃষকদের মতে, এসব অভিযান কেবল লোক দেখানোর জন্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সংকট নেই।’

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সংকট না থাকে, তবে কৃষক কেন দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে? 

সার সংকটের আড়ালে ভেজাল সারের কারবারও এখন তুঙ্গে। নকল সার ব্যবহারে ফসলি জমি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। 

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লালমনিরহাটের কৃষককূলের একটাই দাবি এই ‘শক্ত সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় ব্যাহত হবে খাদ্য উৎপাদন, পথে বসবে উত্তরের জনপদের হাজারো কৃষক।
 
এমআর/ক.ম