জেলা প্রতিনিধি
০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৭ পিএম
সাজেক ভ্যালি ভ্রমণে গেলে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় রুইলুই লুসাই গ্রাম। সেখানে ক্ষণিকের জন্য লুসাই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঘোরাঘুরি, তাদের ইতিহাস, জীবন সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। ২০১৫ সালে পর্যটন স্পট হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে লুসাই গ্রাম সাজেকের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান হয়েছে।
লুসাই সম্প্রদায়ের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত এই গ্রামে প্রবেশ করতে নির্ধারিত টিকিট নিতে হয়। ভেতরে গেলে দেখা যায়— কেউ লুসাইদের জীবন-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানছেন, কেউ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নাচছেন, আবার কেউ ডামি বন্দুক ও বল্লম হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন স্মৃতি হিসেবে রাখতে।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাজার দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত
পর্যটন স্পট লুসাই গ্রামে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার কালা চান ত্রিপুরা জানান, সরকারি ছুটির দিনে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়। প্রতিজনের প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা এবং পোশাক ভাড়া ১০০ টাকা। বর্তমানে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য ৫০টি করে এবং বাচ্চাদের জন্য ১২টি পোশাক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন স্পট লুসাই গ্রাম থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ লুসাই সম্প্রদায়ের কবরস্থান, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও গির্জার বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।
আরও পড়ুন: গোয়াইনঘাটে স্থানীয়দের সঙ্গে পর্যটকদের হাতাহাতি
ফরিদপুর থেকে আসা পর্যটক ইন্দ্রজিৎ সিকদার ও শিমুলি বিশ্বাস প্রথমবারের মতো সাজেকে এসে লুসাই পোশাক পরে বেশ আনন্দ পেয়েছেন। তারা জানান, “এখানে কোনো ঝামেলা নেই, সব কিছুই উপভোগ্য। দূর থেকে পাহাড়ের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে, তবে এখানকার পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রা বেশ কষ্টকর বলে মনে হয়েছে।”
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়, যোগ দিয়েছেন স্থানীয়রাও
রুইলুই মৌজার হেডম্যান লালথাংগা লুসাই বলেন, “১৯৭২ সালের আগে রুইলুই পাড়ায় প্রায় ১৫০টি লুসাই পরিবার ছিল। বিভিন্ন কারণে অনেকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় এখন মাত্র ২০টি পরিবার আছে।” তিনি জানান, ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পাড়ায় বর্তমানে লুসাই ছাড়াও চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, মৌসুম ও সরকারি ছুটির ওপর ভিত্তি করে সাজেকে পর্যটকের সংখ্যা ওঠা-নামা করে। বর্তমানে সাজেকে প্রায় ১০০টি কটেজ–রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি বলেন, “আগে পাহাড়ে মানুষের জীবনযাপন ছিল খুবই কষ্টকর। এখন পর্যটন শিল্পের কারণে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। কেউ কেউ মাসে লাখ টাকাও আয় করছেন।” স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
প্রতিনিধি/ এমইউ