নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া ও সময়স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল প্রকাশক ঐক্য। তবে প্রকাশকদের সব শর্ত মেনে নিয়েছে সরকার। ফলে সেই ঘোষণা থেকে সরে এসে মেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশকদের শীর্ষ সংগঠনটি। যারফলে সবার অংশগ্রহণেই হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, ২০২৬।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের মেলায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন। এসময় আহমদ পাবলিশিং হাউজের প্রকাশক মেছবাহউদ্দীন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক দীপঙ্কর দাশ, আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুব রাহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘সরকার শর্ত মেনে নিয়েছে। তাই প্রকাশক ঐক্য বইমেলায় অংশ নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এবার বইমেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে প্রকাশক ঐক্য কোনো প্যাভিলিয়ন নেবে না এবং অন্য কাউকেও প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু যখন দেখা গেল, প্যাভিলিয়ন ভাঙা হচ্ছে না এবং তাদের শর্ত মানা হচ্ছে না, তখন তারা মেলায় না থাকার ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেয়। তবে গতকাল (রোববার) রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপস) আন্তরিক একটি সমঝোতা হয়েছে। ফলে প্রকাশক ঐক্য বইমেলায় অংশ নেবে।’
মাহরুখ মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রকাশকদের প্রাথমিক চাওয়া ছিল বাস্তবতার নিরিখে বইমেলা ঈদের পর আয়োজন করার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে তারা সাড়া পাননি। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার শপথ গ্রহণের পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় প্রকাশকেরা তিনটি শর্ত দিলে সরকার তা পূরণের আশ্বাস দেয়। এরপর দুই শতাধিক প্রকাশক গত ১৯ তারিখে আবেদন জমা দেন।’
এরআগে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছিল প্রকাশক ঐক্য। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাধ্য হয়েই, বাস্তবতার নিরিখে ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ থেকে নিজেদের বিরত রাখছে।
আরও পড়ুন:
বইমেলা ঈদের পর আয়োজনের দাবি প্রকাশকদের
মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার ভাষার মাসের শুরুতে আয়োজন করতে না পেরে মেলা উদ্বোধনের জন্য ২০শে ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রকাশকদের বর্জনে শেষপর্যন্ত ওইদিন মেলা শুরু করা যায়নি।
পরে বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সমস্যা সমাধানে দফায় দফায় বৈঠক করেছে বর্জনকারী প্রকাশকদের সঙ্গে। বিনামূল্যে স্টল বরাদ্দ প্রদানসহ বেশকিছু শর্তে ওইসব প্রকাশকরা রাজি হওয়ায় মেলার নতুন দিন ধার্য করেছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বইমেলার উদ্বোধনই প্রথমবার বড় সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ফলে মেলার আয়োজনে কোনো ত্রুটি রাখতে চায় না প্রশাসন। এ কারণে গতকাল রোববার শেষ মুহূর্তে বিবাদমান সব পক্ষকে এক জায়গায় বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়।
এএম