পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেশের প্রকাশকেরা।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এর আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকেরা বইমেলা শুরুর এই তারিখ বদলিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে নেওয়ার দাবি জানান। তারা জানান, এই দাবি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রকাশকদের।
সংবাদ সম্মেলনে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রকাশকের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের বইমেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের ঘোষণা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রকাশকদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় স্টল ভাড়া মওকুফ ও সরকারি খরচে স্টলের সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানান প্রকাশকেরা।
বই কিনতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পয়লা বৈশাখের মতো বিশেষ ‘বই-ভাতা’, প্রণোদনা চালু ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সরকারের বই ক্রয় নীতি সংস্কারেরও দাবি জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘বইপড়ার সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রকাশকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু পবিত্র রমজানের মধ্যে বইমেলা শুরু হলে প্রকাশকদের পক্ষে বইমেলায় অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘প্রকাশকেরা মেলায় অংশ নিতে চায়, কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ধ্বংস হতে চায় না।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকেরা জানান, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন করা হলে তাদের ত্রিমুখী সংকটে পড়তে হবে। এসব সংকটের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা, লজিস্টিক ও নির্বাচনকালীন সংকট এবং মানবিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা।
মেলার সূচি রমজানের মধ্যে হওয়ায় প্রকাশকদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি রয়েছে। তাই ফেব্রুয়ারির মেলায় অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে ৩১ জন প্রকাশক। আর ১৫২ জন প্রকাশক মেলায় অংশগ্রহণ করার বিষয়ে একেবারেই অনিচ্ছুক।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানান আয়োজকেরা।
আদর্শ প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী মাহাবুব রাহমানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁরা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর পাননি।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকার পবিত্র রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে ক্রেতা পাওয়া দুষ্কর হবে। কারণ, সবাই ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকবে। ঈদের আগে সবাই স্বজনদের কাছে যাবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে বই কিনতে কেউ মেলায় যাবে না।’
অনন্যা প্রকাশকের স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, ‘আমরা মেলা চাই। কিন্তু বাস্তবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সময় পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক মোবারক হোসেন, কাকলি প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী নাসির আহমেদ, হৃদম প্রকাশনা সংস্থার গফুর হোসেন, বাপুসের সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার প্রমুখ।
এমআই

