ইউটিউবের পাশাপাশি নতুন প্ল্যাটফর্মে দর্শক ও আয়ের সুযোগ খুঁজতে গিয়ে ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের নজর এখন চীনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলির দিকে। ‘চীনের ইউটিউব’ নামে পরিচিত এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত অ্যানিমেশন, কমিকস ও গেমিং কেন্দ্রিক অনলাইন কমিউনিটি হিসেবে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে ব্যবহারকারীদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এবং আকর্ষক কনটেন্টের সুবাদে এটি চীনে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে শুধু চীন নয়, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশেও এর পরিসর বিস্তৃত হয়েছে।
বিলিবিলির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল বিনোদন ও কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান কাস্টমার বা ব্যবহারকারী মূলত জেনারেশন জি এবং মিলেনিয়াল প্রজন্ম, যারা অ্যানিমেশন, গেমিং, লাইফস্টাইল ভ্লগ এবং পপ কালচারভিত্তিক কনটেন্ট দেখতে ও তৈরি করতে ভালোবাসেন। এখানে ঐতিহ্যবাহী ভিডিও শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি বুলেট কমেন্টস বা স্ক্রিনের ওপর ভেসে ওঠা কমেন্টের এক অনন্য সংস্কৃতি রয়েছে, যা দর্শকদের সরাসরি ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করে এবং যোগাযোগের এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

চীনের মানুষ মূলত ইউটিউব ব্যবহার করে না কারণ দেশটিতে সরকার কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নীতি বা গ্রেট ফায়ারওয়াল বজায় রেখেছে। এর ফলে গুগলের সমস্ত পরিষেবা, ইউটিউব, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্রধান আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো চীনে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা নিষিদ্ধ। এই কারণে চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে আলাদা ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। বিলিবিলি ঠিক সেই জায়গাতেই ইউটিউবের একটি শক্তিশালী স্থানীয় বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে চীনা নাগরিকরা কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের ভিডিও কনটেন্ট উপভোগ ও শেয়ার করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ইউটিউবের এই নিয়ম না মানলে বন্ধ হতে পারে চ্যানেল
ভিডিও দেখার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ক্রিয়েটরদের কাজ সরাসরি সমর্থন করতে পারেন এবং প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে বিনোদনের নানা উপাদান উপভোগ করেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এটি বিশ্বজুড়ে ভিডিও স্ট্রিমিং বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে। ইউটিউবের পাশাপাশি নতুন বিকল্প হিসেবে এই প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে আরও কতটা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এজেড




